ফ্রান্সে শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুলের প্রতিবাদে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, ৪শ স্কুল বন্ধ - আটক ৫ হাজার

প্রকাশ : 04 Oct 2026
ফ্রান্সে শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুলের প্রতিবাদে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, ৪শ স্কুল বন্ধ - আটক ৫ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও তীব্র শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে প্যারিসের দরিদ্র উপশহরগুলোতে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার আগামী বছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর আরও জোরালো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী। সংঘর্ষে কয়েক ডজন আহত হয়েছেন, অনেকের অবস্থা গুরুতর, চোখে আঘাত, দাঁত ভাঙা ও মাথায় আঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সারাদেশে প্রায় ৪০০টি হাইস্কুল বন্ধ রাখা হয়, যা দেশের মোট স্কুলের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ। এর আগের দিন ১২০০টির বেশি স্কুলে বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা আবর্জনার বিনে আগুন, স্কুলের সামনে ব্যারিকেড এবং কোথাও কোথাও পুলিশের দিকে আতশবাজি ছোড়ে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।


আন্দোলনের মূল অভিযোগ শিক্ষক স্বল্পতা, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীতে ঠাসা ক্লাসরুম এবং জরাজীর্ণ ভবন। প্যারিসের উত্তরাঞ্চলীয় উপশহর অবেরভিলিয়ার্সের লিসে লে করবুজিয়ে স্কুলে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই গণিত, ইংরেজি, মানবিক ও খেলাধুলার ক্লাস বাতিল হচ্ছে শিক্ষক না থাকায়। অভিভাবক প্রতিনিধি কারিমা কারা আলি জানিয়েছেন, অনেক স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পাবলিক মাধ্যমিক স্কুলে প্রায় ১০ শতাংশ ক্লাসই শিক্ষক না থাকায় হয়নি।


এদিকে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও। অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষকদের ট্রেড ইউনিয়নগুলো। এর এক সপ্তাহ আগেই বেতন স্থগিতের প্রতিবাদে সরকারি কর্মচারীরা ধর্মঘট পালন করেছিলেন।


অন্যদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি অগ্রহণযোগ্য সহিংসতার পরিবেশ। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার এবং সহিংসতায় না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী এডোয়ার্ড গেফ্রে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৬৫ জন শিক্ষাকর্মী, যার মধ্যে ৪০ জন প্রধান শিক্ষক, আহত হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের চরিত্র এখন প্রতিবাদ থেকে নগর সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্স সরকার ২০২৭ সালের খসড়া বাজেট ঘোষণা করে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৫ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ইউরো করা হয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও কম। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে। রয়টার্স জানিয়েছে, ঋণ পরিশোধের ব্যয় ২০২৭ সালে ৭৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাবে, যা শিক্ষা বাজেটকেও ছাড়িয়ে যাবে। এই বাজেট ঘোষণার পরপরই প্যারিস, মার্সেই, স্ট্রাসবার্গ, তুলুজ ও লিলসহ সব বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।


সম্পর্কিত খবর

;