রংপুরে মাদরাসার এতিমখানা শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ : 08 Sep 2026
রংপুরে মাদরাসার এতিমখানা শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

রংপুর অফিস: রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের (বলাৎকার) অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কাউনিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। এদিকে মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আজিজুল হাকিম (২৪) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় একটি সূত্রে তার নাম আজিজুল ইসলাম (৩৫) এবং বাড়ি রংপুর সদর কোতোয়ালী থানার পালিচড়া এলাকায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কাউনিয়া উপজেলার ৫নং বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতী মৌজাস্থ জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসায়। 


পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক শরীর টিপে নেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডেকে নেন। ম্যাসাজের একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ (বলাৎকার) করেন ওই শিক্ষক। বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতিও দেখানো হয় শিক্ষার্থীকে। এরপর গত সোমবার রাতে ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডেকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থী কৌশলে কক্ষ থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। পরে রাতেই স্বজনেরা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।


ভুক্তভোগী শিশুশিক্ষার্থী জানায়, মাদরাসার আজিজুল হুজুর প্রায় রাতে রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে শরীর ম্যাসাজের নামে খারাপ কাজ করতে বলেন। হুজুরের কথায় রাজি না হলে রড ও পাইপ দিয়ে মারপিট করতেন। সোমবার রাতে তাকে রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করেন। এ সময় টয়লেট যাওয়ার কথা বলে রুম থেকে বের হয়ে বাড়িতে পালিয়ে যায়। এর আগেও খারাপ কাজ করেছেন হুজুর। ব্যথা হলেও বাইরে কাউকে যেন না বলে সেজন্য ভয়ভীতি দেখাতেন বলেও জানায় ভুক্তভোগী। মারধর এবং ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও দাবি করে শিশুটি। 


অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকালে শালিস করার কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসার পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে ক্লাসে যান অন্য শিক্ষকেরা। পরে শালিসের আগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সকাল ১১টার দিকে ভিকটিমের পরিবার ও স্বজনরা মাদরাসায় উপস্থিত হন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় এবং সামাজিক মীমাংসা না হওয়ায় ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের চরম বাকবিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 


অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান জানান, ওই শিক্ষককে পালাতে তিনি সহযোগিতা করেননি। সকালে কীভাবে সবার অগোচরে পালিয়ে গিয়েছেন তা তিনি জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিত। অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রকাশ্য শাস্তির দাবি জানান তারা।


কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল হাকিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। 


সম্পর্কিত খবর

;