হিমালয়ে ফের বন্যার আতঙ্ক

নেপাল-তিব্বতে মৃত ছাড়াল ৩৫৯, ১৪০০ নিখোঁজ

প্রকাশ : 28 Aug 2026
নেপাল-তিব্বতে মৃত ছাড়াল ৩৫৯, ১৪০০ নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে। কাদামাটির স্তূপ সরিয়ে চলছে প্রাণের খোঁজ। নেপাল পুলিশের বরাতে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৮টি জেলা থেকে ৩৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও চ্যানেল নিউজ এশিয়া জানাচ্ছে মৃতের সংখ্যা ৩৬০ থেকে ৩৯২ পর্যন্ত পৌঁছেছে, এর মধ্যে শুধু নেপালের রসুয়া জেলাতেই ৩৮৯ জন। এইটুকু ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা থেকে নেওয়া।


গত বুধবার সকালে হিমালয়ের একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে লেন্দে খোলা নদীতে পড়ে যায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে একে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প মনে করা হলেও পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি বরফ ও পাথরধসের ফলে সৃষ্ট কম্পন ছিল। সেই ধস থেকেই কাদা, পাথর ও বরফের বিশাল প্রাচীর ধেয়ে এসে নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ জিরোং ও রসুয়াগধি বন্দর এলাকা লণ্ডভণ্ড করে দেয়। ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মুহূর্তে ভেসে যায়।


নেপাল-তিব্বত সীমান্তে দ্বিতীয়বার বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকারীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন; এদিকে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এইটুকু বিবিসি থেকে নেওয়া। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখনও ১০০০ থেকে ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুধু তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতেই ২৬০ জন বিদেশি সহ ৫৫৮ জন নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় পুণ্যার্থী, যারা কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন, এছাড়াও মার্কিন, ব্রিটিশ, অস্ট্রেলীয় ও কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৪৪ জন নেপালি সেনা ও ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।


বর্তমানে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো দ্বিতীয় দফা বন্যা। ভূমিধসে ভোটেকোশি নদীর উজানে দুটি স্থানে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে হ্রদের পানি ক্রমশ বাড়ছে এবং যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। নেপাল ও চীন উভয় দেশই নতুন করে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হ্রদ দুটির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।


দুর্গম এলাকায় ৫ হাজারেরও বেশি সেনা, সশস্ত্র পুলিশ ও উদ্ধারকর্মী তল্লাশি চালাচ্ছেন। নেপাল আর্মি ১৪টি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়াদের কাছে তাঁবু, শুকনো খাবার ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে ৩২ সদস্যের এসডিআরএফ দল এবং জাতিসংঘের ত্রাণ দল উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে। আবহাওয়া খারাপ ও বিদ্যুৎ-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু।


সম্পর্কিত খবর

;