ফরিদপুরে সর্বহারা পার্টি,ছয় শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি

প্রকাশ : 05 Sep 2026
ফরিদপুরে সর্বহারা পার্টি,ছয় শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয়ে কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ছয় শিক্ষককে ফোন করে চাঁদা দাবি ও পরিবারসহ হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষককে ধারাবাহিকভাবে ফোন করে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনায় শিক্ষক ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ঘটনায় পাঁচ শিক্ষকের পক্ষ থেকে বোয়ালমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কলেজের শিক্ষক পরেশ কুমার পাল ওই জিডি করেন।


জিডি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে থাকা অবস্থায় পরেশ কুমার পালের মোবাইলে ফোন আসে। অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার ‘সর্বহারা পার্টির’ দায়িত্বে আছেন। পাশাপাশি তিনি সিরাজ সিকদারের ভাই মহিউদ্দিন সিকদারের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান।


ফোনে কারাগারে থাকা কয়েকজন সহকর্মীর জামিনের ব্যবস্থা করার কথা বলে প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ওই ব্যক্তি অন্তত ২৫ হাজার ৫০০ টাকা ‘টোকেন মানি’ হিসেবে দেওয়ার কথা বলেন। টাকা না দিলে রংপুরে পরিবারসহ এক শিক্ষককে হত্যার ঘটনার মতো পরিণতি হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


একইভাবে কলেজের শিক্ষক নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহা ও দেবাশীষ রায়ের কাছেও ফোন করে টাকা চাওয়া হয় বলে জানা গেছে। শিক্ষক দেবাশীষ রায় জানান, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘ছেলে গুলিবিদ্ধ হলে যেভাবে টাকার ব্যবস্থা করতেন, সেভাবে টাকা এনে দেন। চরমপন্থা নিতে বাধ্য করবেন না।’


এদিকে কলেজটির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্করও একই ধরনের একটি ফোন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আতঙ্কের কারণে তিনি ফোনে দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন বলে জানান।


একই কলেজের কয়েকজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় শিক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক পরেশ কুমার পাল বলেন, তারা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসনেয়ারা বেগমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো প্রতারক চক্র চরমপন্থি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকতে পারে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

সম্পর্কিত খবর

;