অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক, পুলিশ সহ আহত শতাধিক।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতা টানা পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণ আসলেও পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজার এলাকায় সকাল ৭টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (দুপুর সাড়ে ১২টা) মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। দেশীয় অস্ত্র—ঢাল, সরকি, রামদা ও ইট-পাটকেল নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের বীজ বপন হয়। মুনসুরাবাদ গ্রামের এক কিশোর ফুটবল খেলার ঘোষণা দিতে মাইকিং করলে প্রতিবেশী গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে অপদস্থ করে। এর জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন। রাত নামায় পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হলেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে মুনসুরাবাদ বাজারসংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সংঘর্ষ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বহু লোককে ঘরের ছাদ ও দোকানের চালা থেকে ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়, ফলে পুরো বাজার এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষের বহু সমর্থকও গুরুতর জখম হন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, পূর্বের ঘটনার জের ধরেই শনিবার সকালে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এই সহিংসতা দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত বাহিনী ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র ২৫ দিনে সংস্কারকাজ শেষ করে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসিসি) নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে ব্রিজটির ...
বরিশাল অফিস: বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বহির্বি ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই প্রকৃতিতে আপনাআপনি জন্ম নেওয়া অচাষকৃত শাকসবজির পুষ্টি ও ঔষধিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে নেত্রকোণায় ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ...
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে সেতু নির্মাণ কাজ দেড় বছর আগে সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। সড় ...
সব মন্তব্য
No Comments