নেত্রকোণা প্রতিনিধি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই প্রকৃতিতে আপনাআপনি জন্ম নেওয়া অচাষকৃত শাকসবজির পুষ্টি ও ঔষধিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে নেত্রকোণায় ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গ্রামের নারীরা বাড়ির আঙিনা, জমির আইল, পতিত জমি ও রাস্তার পাশ থেকে সংগ্রহ করা ২৯ ধরনের অচাষকৃত শাকসবজি প্রদর্শন করেন।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার মৌজেবালি গ্রামে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সহযোগিতায় ফুলপাখি কিশোরী সংগঠন ও রাখাল বন্ধু কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রদর্শনীতে গীমা, গোলসানচি, কলমি, থানকুনি, হেলেঞ্চা, ঝনঝনা, গাঁদাপুইয়া, বথুয়া, বারাল, ডুমুর, পুদিনা, তেলাকুচা, সুনসুনি, কালকচু, বনকচু, শান্তিশাক, লালকচু, হাতিশুঁড়, কুমারি ডুগা, টুনাটুনিশাক, কেউরালি, শালুক, তিতবেগুন, গাছআলু, কলারতোরসহ বিভিন্ন অচাষকৃত উদ্ভিদ স্থান পায়।
সকাল থেকেই গ্রামের নারীরা বাড়ির আশপাশ, জমির আইল ও পতিত জায়গা থেকে এসব শাকসবজি সংগ্রহ করে মেলায় নিয়ে আসেন। পরে তারা নিজেদের মধ্যে এসব উদ্ভিদের পরিচিতি, পুষ্টিগুণ, ঔষধিগুণ এবং কোন অংশ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আলোচক ছিলেন নেত্রকোণা বারটানের পরিচালক ও পুষ্টিবিদ ড. মোসা. আলতাফ-উন-নাহর। বক্তব্য দেন বারসিক কর্মকর্তা রোখসানা রুমি ও লক্ষীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আব্দুল বারেক। এ সময় গ্রামের নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী ও যুবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. মোসা. আলতাফ-উন-নাহার বলেন, আমাদের চারপাশে এমন অনেক উদ্ভিদ ও শাক জন্মায়, যেগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং নানা ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ। কিন্তু মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে এসব উদ্ভিদ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পুষ্টি ঠিকভাবে পেতে শাকসবজি কাটার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং সিদ্ধ করার পর সেই পানি ফেলে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ নারী কাজলা, রুপেনা আক্তার, রোখসানা আক্তার, রাবেয়া ও মনোয়ারাসহ অনেকে। তারা বলেন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদিত খাবারের ওপর মানুষ দিন দিন বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অথচ গ্রামের আশপাশেই প্রকৃতির দেওয়া অসংখ্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য রয়েছে।
বক্তারা বলেন, অচাষকৃত শাকসবজির পরিচিতি ও ব্যবহার সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানানো জরুরি। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শুধু বৈচিত্র্যময় খাদ্যসম্পদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয়ই হচ্ছে না, বরং গ্রামীণ মানুষের দীর্ঘদিনের লোকায়ত জ্ঞানও সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আয়োজকেরা জানান, অচাষকৃত শাকসবজি গ্রামের নারীদের জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসব উদ্ভিদের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পুষ্টি ও ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বাড়াতে নিয়মিত এমন আয়োজন করা প্রয়োজন।
আলোচনা ও পরিচিতি পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশবান্ধব উপকরণ হিসেবে বাঁশের তৈরি কুলা ও ডালা দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে সেতু নির্মাণ কাজ দেড় বছর আগে সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। সড় ...
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: রাত পোহালেই মেয়ের বিয়ে। বাড়িতে চলছিল ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন। বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য গরু জবাইসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এরই মধ্যে বিদ্যুতের তার সর ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকীরচর স্থায়ী বেঁদে পল্লীতে নারী ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উভয় পক্ষের ...
ঝালকাঠি (কাঁঠালিয়া) প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের কৈখালী বাজারে শতবর্ষী একটি ঐতিহ্যবাহী গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত ...
সব মন্তব্য
No Comments