স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাদের প্রেরণার উৎস। তাঁর কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জনগণ বিগত ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে।
আজ (শনিবার) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে আমি ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।”বাংলাদেশের জনগণ অনেক কঠিন লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তারা কঠিনকে ভালোবেসেছিল। এই দীর্ঘ সংগ্রাম জনগণকে বঞ্চিত করেনি। তারা একটি নতুন সকালের দেখা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই পঙক্তিগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে এবং কঠিন সত্যকে ধারণ করে বিপ্লব ঘটিয়েছে। যারা গত ১৭-১৯ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারাও এই সত্য ও কঠিনকে ভালোবেসে শক্তি সঞ্চয় করেছে।
চীফ হুইপ বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলতে হয়, তিনি সমসাময়িক সময়ের চেয়ে অনেক অগ্রগামী চিন্তা করতেন। তাঁর “ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা” কবিতার সেই আবেগ আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। যখনই আমাদের সমাজে স্থবিরতা বা অচলায়তন তৈরি হয়, তখনই এই নবীনেরা সমাজকে জাগিয়ে তোলে এবং রক্ষা করে। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান ছিল আমাদের প্রেরণার উৎস।
মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে বিচরণ করেননি। তিনি একাধারে কবি, সুরকার, অভিনেতা এবং ঔপন্যাসিক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সংগীতজগতকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছেন। রবীন্দ্রসংগীতের একটি আলাদা মাদকতা আছে, যা আমাদের সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং বাংলা ভাষার বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমার প্রত্যাশা, তারা রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে এবং এই বাংলাদেশকে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার দিক থেকে সমৃদ্ধিশালী করে তুলবে। হুমায়ূন আহমেদের মতো বড় মাপের সাহিত্যিক বা বিখ্যাত কবিরা চলে যাওয়ার পর আমরা তেমন কাউকে তৈরি করতে পারিনি। সমাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যেখানে নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। আমরা এখন অনেক অপসংস্কৃতি এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করছি। আমাদের উচিত নিজস্ব সত্তায় ফিরে আসা এবং এমন একটি সমাজ গড়া, যেখানে মাদক, অপশক্তি এবং স্বৈরাচার থাকবে না। মানুষ সেখানে সুন্দর জীবনযাপন করবে এবং একটি নতুন সূর্যের আলোয় আমরা আলোকিত হব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চীফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয় এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লুতুব আলি, কলকাতা: প্রকৃতি প্রেমিক সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিবস পালন করল পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চ। আজ কলকাতার শিয়ালদহর কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিকের সা ...
ডেস্ক রিপোর্ট: নাচের উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক আদান প্রদানে অংশগ্রহণের জন্য ফ্রান্সের জিয়ান লরিনজেট অফ জ্যাজ ড্যান্স কোম্পানির আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পী, কোরিওগ্রাফার ও নির্দেশ ...
স্টাফ রিপোর্টার: গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আগামী ১১ই সেপ্টেম্বর লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগের পটভূমি ও উদ্দেশ্য তুলে ধরত ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘মূকাভিনয়ে নজরুল’।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার ধানমন্ ...
সব মন্তব্য
No Comments