তদন্তে পিবিআই’র বিস্ফোরক তথ্য

চুরির নাটক সাজিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আত্মগোপনে এরতেজা হাসান

প্রকাশ : 18 May 2026
চুরির নাটক সাজিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আত্মগোপনে এরতেজা হাসান

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ড. কাজী এরতেজা হাসান। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হন অল্প সময়ে। বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান না গড়লেও সিআইপি মর্যাদা বাগিয়ে নেন। যত্রযত্র অস্ত্র দেখিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে কাবু করতেন অহরহ। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বিগত ২০০৯ সালের পর সকল বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় অন্তবর্তী সরকার। এই নির্দেশের পর এরতেজা হাসান তার আগ্নেয়াস্ত্র চুরি যাওয়ার নাটক সাজিয়ে মামলা করেন। মামলা করেই আত্মগোপনে যান এরজেতা হাসান। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশকে (পিবিআই)। পিবিআই তদন্ত শেষে চুরি অভিযোগ সম্পূর্ণ বলে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হয়েছে, সংগীতশিল্পী শেখ উর্মি আরমানের ভবনে থাকা এরতেজা হাসানের অফিসে কোনো চুরির ঘটনাই ঘটেনি। বরং পিয়ন মিঠুকে দিয়ে পুরো ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল। অস্ত্রটি অবৈধভাবে নিজের দখলে রাখতেই ‘চুরির নাটক’ সাজানো হয়।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১২ মার্চ মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। কিন্তু সেই অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার হয়নি, একইভাবে এরতেজা হাসান এখনো আত্মগোপেন আছেন।  

এরতেজা হাসানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতসহ নানা অপরাধের অভিযোগে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন। একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই প্রতারণা ও জালিয়াতির একটি মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন।  তার মালিকানাধীন ‘রূপান্তর রিয়েল এস্টেট’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়া হলেও অনেককে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, এমনকি টাকা ফেরতও পাননি ভুক্তভোগীরা। এর ফলে বহু পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ‘বাজার ২৪’ নামে একটি এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমেও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে । শুধু গ্রাহক নয়, তার মালিকানাধীন ‘ভোরের পাতা’সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ মাসের পর মাস কাজ করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পেতেন না তারা। অনেক কর্মচারী পাওনা টাকা না পেয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কয়েক দফা এরতেজা হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টার করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে, তার ঘনিষ্ট কয়েকজন জানান, তিনি দেশেই আত্মগোপনে আছেন।


সম্পর্কিত খবর

;