বাসযোগ্য নগরী গড়াই এখন মূল লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

প্রকাশ : 04 Oct 2026
বাসযোগ্য নগরী গড়াই এখন মূল লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক


স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের আগে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, ডেঙ্গু, সড়ক, সড়কবাতি, ম্যানহোল, যানজটসহ নগরের বিভিন্ন সমস্যা সমন্বিতভাবে সমাধান করতে হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনের নাগরিক সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষায় বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ওয়াসার আওতাধীন ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনের কয়েকটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর রেড জোন বা উচ্চঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সড়ক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অনেক রাস্তা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক ঠিকাদার চলে যাওয়ায় কাজগুলো শেষ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন মানুষ ভোগান্তিতে ছিলেন। তবে বেশির ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে।

পুরান ঢাকার সড়কবাতির সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় সরু ও অন্ধকার রাস্তার কারণে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চলাচলে সমস্যা হয়। তাই সড়কবাতি দ্রুত মেরামতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়ে যাওয়াকে গুরুতর সমস্যা উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, বৃষ্টির সময় পানি জমে গেলে খোলা ম্যানহোল দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি এবং সিসিটিভি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

যানজট ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশ, প্রশাসক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি কাজ করছে। শুধু নীতিমালা করলেই হবে না, তা বাস্তবায়নও করতে হবে।

ইশরাক বলেন, ঢাকার কিছু এলাকায় রিকশার প্রয়োজন রয়েছে। তাই জোনভিত্তিক সীমিতসংখ্যক রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অটোরিকশার আমদানি ও চলাচলও নীতিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বুড়িগঙ্গা দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীতে কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও বাসাবাড়ির স্যুয়ারেজ বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাতারাতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ইশরাক বলেন, উন্নয়ন বলতে শুধু দালানকোঠা, সড়ক বা সেতু নির্মাণ বোঝায় না। গ্যাস, পানি, ড্রেনেজ ও অন্যান্য নাগরিক অবকাঠামোর উন্নয়নও এর অংশ। ঢাকার অনেক গ্যাস পাইপলাইন ৮০ বছরের পুরোনো হওয়ায় বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় সাতটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি সেবাদানকারী সংস্থা কাজ করে। ফলে সমন্বয় ছাড়া ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ইশরাক আরও বলেন, তাঁর লক্ষ্য ঢাকা-৬ আসনসহ পুরো ঢাকাকে আগে বাসযোগ্য করে তোলা। ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের সময়ও তিনি বলেছিলেন, ঢাকাকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লন্ডন বা আমেরিকার মতো করার কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে আগে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে ধোলাইখাল ও লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন সড়ক থেকে হকার ও অবৈধ স্থাপনা সরানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব কারণে কোনো কোনো সড়কের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জায়গা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ধোলাইখালের ট্রাকস্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মেয়র নির্বাচন প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, দল প্রয়োজন মনে করলে তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রস্তুত রয়েছেন। আর দল অন্য কাউকে প্রার্থী করলে সেই প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।

তিনি বলেন, দলের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি এগিয়ে আসবেন। দল যদি মনে করে তাঁকে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী করবে, তাহলে তিনি প্রস্তুত আছেন। আর অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলে দলের প্রার্থীকে জয়ী করতেও তিনি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।


সম্পর্কিত খবর

;