জলবায়ু ন্যায় ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন অঙ্গীকার

বেলেমে শুরু হয়েছে কপ৩০

প্রকাশ : 11 Nov 2025
বেলেমে শুরু হয়েছে কপ৩০

এ বছর আয়োজক দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, জলবায়ু সংকট শুধু পরিবেশের নয়, এটি মানুষের অস্তিত্বের সংকট। বিশ্বকে এখনই একযোগে কাজ করতে হবে।


রফিকুল ইসলাম সুজন: ব্রাজিলের বেলেম শহরে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের ৩০তম বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলন০কপ৩০। স্থানীয় সময় ১০ নভেম্বর সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের এই বৃহত্তম সম্মেলনের উদ্বোধন হয় । আগিমী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে ১৯০টিরও বেশী দেশ ও অঞ্চল, যেখানে প্রতিনিধি সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ হাজারের বেশী। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, স্বাস্থ্য ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থায়ন-এই বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীর, ভারত, বাংলাদেশ, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূণূ প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। 

এ বছর আয়োজক দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, জলবায়ু সংকট শুধু পরিবেশের নয়, এটি মানুষের অস্তিত্বের সংকট। বিশ্বকে এখনই একযোগে কাজ করতে হবে।


সম্মেলনের 'Leadera' Summit' পর্বে অংশ নিচ্ছেন ৫৭ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও ৩৯ জন মন্ত্রী। এদের মধ্যে তাজিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুরা ফন ডার লেইন, ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

জলবায়ু ঝুঁকিতে শীর্ষ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবারের কপ৩০-এ। বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন-

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি,

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধ, 

বিভিন্ন গবেষণা ও নাগরিক সংগঠনের সদস্যরা।

এছাড়াও শিশু প্রতিনিধি হিসেব সাতক্ষীরার নওশিন ইসলাম ও নূর আহমাদ জিদার বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিচ্ছেন। নাগরিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সর্বমোট ৪০ জনের বেশি প্রতিনিধি বেলেমে অবস্ন করার কথা জানাগেছে।

স্বাস্থ্য ও জলবায়ু

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবারের সম্মেলনে 'হেলথ প্যাভিলিয়ন' আয়োজন করেছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। 

১৩ নভেম্বর পালিত হবে 'হেলথ ডে', যেখানে অংশ নেবেন বিশ্বজুড়ে মন্ত্রী, বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

১৪ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে 'বেরেম হেলথ অ্যাকশন প্লান' যেখানে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গঠনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। একই দিনে WHO ও ব্রাজিল সরকার দুটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

সম্মেলনের বার্তা

 বিশ্বনেতারা একবাক্যে বলেছেন-এই দশকই জলবায়ু পদক্ষেপের 'ডিসাইসিভ ডেকেড'। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।


সম্পর্কিত খবর

;