পাল্টাপাল্টি হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

প্রকাশ : 20 Jul 2026
পাল্টাপাল্টি হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর মধ্যে ফের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংঘাত শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দুই দেশ একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং ইরানের ভূখণ্ডেও হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে মার্কিন বাহিনী বলেছে, ইরানের আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতেই গুলি চালিয়েছে তারা। স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন বিমান হামলা শুরু করেছে।


বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের হামলায় পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, যার কয়েকটি ‘পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী’ হয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ আটটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করেছে। পেন্টাগনের হিসাবে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে তারা ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।


উভয় পক্ষই বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর। তবে যে কোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও আলোচনা এখনো অমীমাংসিত।


হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ‘নৌ চলাচল পরিষেবা’ মাশুল আদায় করায় ইরানের ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’র ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একে ‘তেহরানের অর্থের জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টাপাল্টি হামলাকে ‘লাভ ট্যাপ’ বা সামান্য আঘাত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন আর মার্কিন ঘাঁটির জন্য ‘নিরাপদ কোনো স্থান’ নয়।


বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হামলাগুলো আগের স্বীকারোক্তির চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ও ব্যাপক ছিল। সামাজিক মাধ্যমে এই সংঘাত নিয়ে তীব্র মেরুকরণ দেখা গেছে। একপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করছে, অন্যপক্ষ ইরানের পাল্টা হামলাকে ‘আত্মরক্ষা’ বলছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সর্বশেষ তথ্যের জন্য নজর রাখছে। 


সম্পর্কিত খবর

;