‘বেলুচিস্তান হাতছাড়া হয়ে গেছে’

প্রকাশ : 19 Jul 2026
‘বেলুচিস্তান হাতছাড়া হয়ে গেছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের চলমান সংকট নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রখ্যাত টক শো সঞ্চালক ও বুদ্ধিজীবী ফাইক সিদ্দিকী। ‘ফাইক সিদ্দিকী শো’-তে হাত নেড়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বেলুচিস্তান হাত ছে নিকাল চুকা হে”—অর্থাৎ বেলুচিস্তান হাতছাড়া হয়ে গেছে। তিনি পাঞ্জাবের জনগণ ও সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, প্রদেশটি আর কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেই।


ফাইক সিদ্দিকী বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, জোরপূর্বক গুম, অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন। তার মতে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে প্রদেশটির রাজনৈতিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়। বেলুচ জনগণের অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে বছরের পর বছর দমননীতি চালানোর ফলেই আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোয়েটা, জিয়ারত ও লাসবেলায় বড় ধরনের হামলার পর বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস জানিয়েছে, ৫ জুলাই কোয়েটার উপকণ্ঠে সশস্ত্র হামলা, ৬ জুলাই জিয়ারতে পুলিশ পোস্টে হামলা এবং ৭ জুলাই বেলায় সেনাবাহিনীর কনভয়ে অ্যাম্বুশ হয়েছে। জিয়ারতের মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় পুলিশ পোস্টে হামলায় ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। অপহৃত আরও ১৮ জনকে পরে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে ডন। নিহতদের পরিবার ৯ জুলাই থেকে কোয়েটার কোইলা ফটকে মরদেহ নিয়ে টানা ১০ দিন ধর্না দেয়। পরে সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনসহ সব দাবি মেনে নিলে ধর্না প্রত্যাহার হয়।


এই হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি। সংগঠনটি ৪ জুলাই জিওয়ানিতে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডস ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে। ১৭ জুলাই মাস্তুংয়ে সামরিক কনভয়ে হামলায় ৪৫ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে বিএলএ। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পাল্টা ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করেছে। সামরিক সূত্রের দাবি, অভিযানে ৯১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণ অনেক এলাকায় বেড়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা সংকটের কারণে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বেলুচিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত মে মাসে পাকিস্তানে ৫৪টি অপহরণের ঘটনার মধ্যে ৫২টিই বেলুচিস্তানে ঘটেছে বলে জানিয়েছে ডন। প্রদেশটিতে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।


গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কোয়েটায় প্রাদেশিক এপেক্স কমিটির বৈঠকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ শেষ করার বিষয়ে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের পারস্পরিক এবং একক সিদ্ধান্ত হয়েছে।” তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দাবি করলেও, সাম্প্রতিক হামলা ও ফাইক সিদ্দিকীর মতো বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য প্রমাণ করছে, বেলুচিস্তানের মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। বেলুচিস্তান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১.১৩ ট্রিলিয়ন রুপির বাজেট দিলেও সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ একে ‘জনবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

সম্পর্কিত খবর

;