ত্রকোনায় জমি বিরোধে হামলায় আহত ২, স্বর্ণালংকার ছিনতাই ও ভাঙচুর

প্রকাশ : 19 Jul 2026
ত্রকোনায় জমি বিরোধে হামলায় আহত ২, স্বর্ণালংকার ছিনতাই ও ভাঙচুর

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা সদর উপজেলার হাসামপুর গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনতাই এবং বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার হাসামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্য মো. মাহেনুর (৪৪) নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের।


থানায় দেওয়া অভিযোগে মাহেনুর উল্লেখ করেন, তিনি বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার চাচা শ্বশুর বাবুল মিয়া, চাচি শাশুড়ি সাহেদা আক্তার, মঞ্জুরা আক্তার ও বজলু মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল।


অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির সামনে এসে তার স্ত্রী সাবিনা আক্তারকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় শাশুড়ি বিউটি আক্তার প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সাবিনা আক্তার ও বিউটি আক্তার আহত হন।


অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে সাবিনা আক্তারের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং দুই কানে থাকা ৪ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের দুলসহ মোট ১২ আনা স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বসতঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং বাড়ির সামনে থাকা পাঁচটি সুপারি গাছ কেটে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার আগে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সাবিনা আক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত বিউটি আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েকটি সুপারি গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তারা দেখেছেন। তবে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ সম্পর্কে তারা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।


নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, "এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সম্পর্কিত খবর

;