ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, দোসরদের ধরলে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : 27 Sep 2026
ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, দোসরদের ধরলে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা: দায়িত্ব পালনে অবহেলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয় এমন কোনো কাজ সহ্য করা হবে না। দেশবাসী জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের শক্তি আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে, কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।


তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। পুলিশের কেউ কেউ গোপনে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সংবাদ দিয়ে বা অন্যভাবে সহযোগিতা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ধরনের তথ্য সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন তাদের যথাযথ পুরস্কৃত করা হবে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে গোয়েন্দা সক্ষমতা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি। যারা ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে অফিসিয়ালি রিকোয়েস্ট করেছি- আপনারা সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদের ফেরত দিন। তারা যদি স্বেচ্ছায় এসে আইনের মুখোমুখি হন তাহলে ভালো। কিন্তু মাঝেমধ্যে ফিরে আসবো বলে আওয়াজ দিয়ে তাদের লুকায়িত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করার চেষ্টা তারা করছেন। যারা ১ মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, জনগণ তাদেরকে পুনরায় আর আহ্বান জানাবে না। এ ঘটনায় তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি।


তিনি আরও বলেন, সরকার তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাপক জনপ্রত্যাশা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর গঠিত বর্তমান সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে সরকারের একটাই বার্তা- সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য পুলিশকে কঠোর হতে হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি তারা অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীকেও অপব্যবহার করেছে, তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে, তাদের দিয়ে নির্যাতন করিয়েছে ও তাদেরকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেকে এই অবৈধ নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আমরা এটি চাই না। পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা ও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও আছে। ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।


এছাড়া সমসাময়িক অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি পৃথক ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এই ইউনিটের মূল সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায় এবং প্রতিটি মেট্রোপলিটন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এর আঞ্চলিক শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ফরেনসিক ল্যাবরেটরি এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তায় ইউনিটটিকে সজ্জিত করা হবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উদ্ভূত নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণে পুলিশকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগেই পেশাদারত্ব ও আচরণের আমূল পরিবর্তন দৃশ্যমান করার তাগিদ দেন তিনি।


অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জন্য বিপিএম পুরস্কার পেয়েছেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। বিপিএম-সেবা পুরস্কার পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ও পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত আইজিপি ও রিভার পুলিশ প্রধান মো. রেজাউল করিম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক এবং সাবেক র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী। এছাড়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রশীদ পিপিএম-সেবা পুরস্কার পেয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর

শিরোনাম:
;