আগামীকাল শুভ মহালয়া, পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা; ক্ষণগণনা শুরু শারদীয় দুর্গোৎসবের

প্রকাশ : 09 Oct 2026
আগামীকাল শুভ মহালয়া, পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা; ক্ষণগণনা শুরু শারদীয় দুর্গোৎসবের

স্টাফ রিপোর্টার: বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আগামীকাল। মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের মহালয়া পালিত হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার, বাংলা ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। এই দিনেই পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং শুভ দেবীপক্ষের আনন্দময় সূচনা হয়। 


মহালয়া তিথি শুধু শারদীয়া দেবীর পূজা শুরুর তিথি নয়, এই তিথি পরলোকগত পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোরও তিথি। পক্ষকাল পিতৃপক্ষের অবসানের পরে শুরু হয় দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধির তিথি হলো মহালয়া। শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এই মহালয়া তিথিতেই। এই তিথিতেই শারদীয়া দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন।


পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনো মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলে অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে মহামায়ার রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করেন এবং দেবতাদের ১০টি অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী নিয়ে দেবী দুর্গা ৯ দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করেন। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। সকালে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে জানানো হবে আহ্বান।


মহালয়ার ভোর থেকেই শুরু হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ। সনাতন ধর্মে বলা হয়, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল-তিল-অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করা হয়। মহালয়া উপলক্ষে চণ্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা করা হবে। মূলত মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়ে যাওয়া। মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাণে আছে দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা।


এ বছর তিথির বিন্যাসের কারণে দুর্গাপূজা ৬ দিনের ক্যালেন্ডারে বিস্তৃত হয়েছে। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে শারদোৎসব। পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠীতে বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস, ১৭-১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী। মহালয়া থেকে ষষ্ঠীর বোধনের ব্যবধান ছয় দিন। 


মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ওইদিন ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া শনিবার ভোরে রমনা কালী মন্দিরেও মহালয়া উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।


ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগে লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়ার ঘট স্থাপন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে চড়ে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন।


এ বছর সারা দেশে পূজার আয়োজন বেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সরকার দুর্গাপূজা মণ্ডপের জন্য অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১,৫০০ বেড়ে এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। 


হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল, এনটিএমসি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;