স্মরণ করা হয় ফকির লালন সাঁইজি ও উকিল মুন্সীকে

প্রকাশ : 29 May 2024
স্মরণ করা হয় ফকির লালন সাঁইজি ও উকিল মুন্সীকে

স্টাফ রিপোটার: “ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মিলন, বিভাজন নয় - এই সত্যটাকে জেনে মিলনের সাধনার মাধ্যমে ধর্মচর্চায় মোক্ষ লাভ হয়। ধর্ম-বিবাদ বা ধর্ম-বিভেদে নিরাঞ্জন প্রাপ্তি ঘটে না। ‘সত্তা’র সাধনায় তখন ‘শব্দ’ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সত্তার সাধনায় শব্দ কেবলি রেফারেন্ড মাত্র। সত্তার প্রেম যদি ঠিক থাকে তবে যে শব্দেই তাকে ডাকা হোক না কেনো সেই শব্দেই তিনি ভক্তের দ্বারে এসে বাঁধা পড়েন। লালন ফকিরের তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত,

ঋক্তের দ্বাওে বাঁধা আছেন সাঁই

হিন্দু কি যবন জাতের বিচার নাই॥”

লেখক, গবেষক, এবং লালন রিসার্চ এন্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ও প্রাবন্ধিক ড. আবু ইসহাক হোসেন ফকির লালন সাঁইজিকে নিয়ে এভাবেই তুলে ধরেছেন তাঁর প্রবন্ধে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে "স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ" শীর্ষক স্মরণ অনুষ্ঠানে আজ ২৯ মে ২০২৪ তারিখে স্মরণ করা হয়েছে ফকির লালন সাঁইজিকে। আলোচনা পর্বে প্রাবন্ধিক বক্তা ড. আবু ইসহাক হোসেন জঙ্গীবাদ ও ফিলিস্তিন সমস্যাকে উদ্ধৃত করে বলেন, আমরা একুশ শতকের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় লালন ফকিরের শরণ নিতে পারি। লালন ফকির বাংলার লোকায়ত দর্শনের মহানায়ক। তিনি মানুষকে সব সময় মানুষ হিসেবেই দেখেছেন। সেখানে কোনো জাতি-গোত্র বা ধর্মের বিভাজন তিনি করেননি।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষণ ও মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের নিমিত্তে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে "স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ" শীর্ষক স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ৫ম দিনে স্মরণ করা হয় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এবং বিশিষ্ট বাউল সাধক উকিল মুন্সীকে। এ বছর দেশের ৬২ জন মনীষীদের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২৪ মে ২০২৪ থেকে ১২ জুন ২০২৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দিনের আয়োজন শুরু হয় সন্ধ্যা ৬:০০ টায় জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে। প্রথমেই ফকির লালন শাহ স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় লালন সাঁইজির জীবন ও দর্শনের উপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র।

পরে ‘একুশ শতকে লালন ফকিরের প্রাসঙ্গিকতা’ শীষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মো: মোখলেছুর রহমান আকন্দ, যুগ্ম সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান, ভাইস চ্যান্সেলর, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

আলোচনা শেষে বাউল সম্রাট লালন সাঁইজির গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট লালন সঙ্গীত শিল্পী ফরিদা পারভীন এবং সমীর বাউল।

বাউল সাধক উকিল মুন্সী

২য় পর্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় বাউল সাধক উকিল মুন্সীর জীবন ও কর্মের উপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। পরে বাউল সাধক উকিল মুন্সী এর উপর প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক রেজা। প্রবন্ধের শিরোনাম ‘গীতিকবি উকিল: মানবতীর্থের পরিব্রাজ’। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাফরিজা শ্যামা, অতিরিক্ত সচিব, সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভাপতিত্ব করেন আকরামুল ইসলাম, বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী।

প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. তারেক রেজা উকিল মুন্সীকে নিয়ে তার প্রবন্ধে বলেন, ‘আষাঢ় মাইসা ভাসা পানি’‘লিলুয়া বাতাস’ গানটিতে চমৎকার শিল্পসংহতি লাভ করেছে। হাওয়ার সঙ্গে কথোপকথনের ব্যাপারটিও এখানে পেয়েছে ভিন্নতর মাত্রা। বাতাসের গায়ে ব্যক্তিত্ব আরোপের আয়োজন এর শিল্পমানকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

লিলুয়া বাতাসে প্রাণ না জুড়ায় না জুড়ায়

একা ঘরে ঘুম আসে না শুইলে বিছানায় ॥”

কবিতার পাঠক হিসেবে এই গানটির শিল্পমূল্য সম্মোহিত করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আলোচনা শেষে উকিল মুন্সীর গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মো: মানিক ও রোকসানা আক্তার রুপসা।

সম্পর্কিত খবর

;