ইরানে মার্কিন-ইসরাইয়েল হামলা বন্ধের দাবিতে যুক্ত ফ্রন্টে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ : 02 Mar 2026
ইরানে মার্কিন-ইসরাইয়েল হামলা বন্ধের দাবিতে যুক্ত ফ্রন্টে বিক্ষোভ মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার: ইরানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরায়েলি জায়ানবাদের নৃশংস সামরিক হামলা বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট এর উদ্যোগে আজ ২ মার্চ ২০২৬ সোমবার বিকাল ৩:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরনা পল্টন গিয়ে শেষ হয়।


গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ শাহরিয়ার, জাতীয় গণ ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার অনুগত ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত ও নৃশংস সামরিক হামলা পরিচালনা করছে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি-সহ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। এই হামলা জআন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মৌলিক নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।


নেতৃবৃন্দ বলেন, এই আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি হলো বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সংকটের প্রকাশ। মার্কিন একচেটিয়া পুঁজিবাদের স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং তাদের পণ্য বাজার রক্ষায় এই হামলা করা হয়েছে। লেনিনের ভাষায়, সাম্রাজ্যবাদ যতদিন থাকবে যুদ্ধও ততদিন থাকবে। আজ গোটা বিশ্ব সেই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের নগ্ন চেহারা দেখছে।


নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে এই পারস্পরিক সামরিক উত্তেজনা যে গতিতে বাড়ছে, তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এখন আর কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় গণহত্যা, লেবাননে সামরিক অভিযান এবং এখন ইরানে সরাসরি আগ্রাসন—এই সবই একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক সামরিক সংঘাতের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে। এই যুদ্ধের মাশুল পুঁজিপতিরা নয় দেবে বিশ্বের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। ইরানে এখন এক মৌলবাদী শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে। ইরানি জনগণের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু যেকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজ দেশের ভাগ্য ও শাসক নির্ধারণের অধিকার অলঙ্ঘনীয় এবং এটা একমাত্র সেই দেশের জনগণের অধিকার। সাম্রাজ্যবাদ সেই অধিকারকে বলপূর্বক কেড়ে নিতে চাইছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ যখন ‘গণতন্ত্র’ ও ‘মানবাধিকারের’ মোড়কে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তখন সেটা প্রকৃতপক্ষে হয় সেই দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করার এবং কৌশলগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তান এবং সিরিয়ার করুণ পরিণতি এর উজ্জ্বল উদাহরণ।


নেতৃবৃন্দ দুনিয়াব্যাপী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি মানুষ, শান্তিকামী ও যুদ্ধবিরোধী জনগণ এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন—মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং অবিলম্বে যুদ্ধবন্ধের দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত না করে স্বাধীন ও জনবান্ধব পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করুন।

সম্পর্কিত খবর

;