মিছিল মিটিং আর শোডাউনে দেখা মিলছে নির্বাচনী উত্তাপ
সফিকুল ইসলাম: সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের দ্বিতীয় মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে অন্তবর্তী সরকারের থাকা উপদেষ্টারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। তারা বলছেন আগামী নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা ও উৎসবমুখর। এতে মিছিল মিটিং আর শোডাউনে দেখা মিলছে নির্বাচনী উত্তাপ। তবে তফসিল ঘোষনার আগেই নির্বাচনী মুডে রয়েছে বিএনপি। মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত, সেই সঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে দলটির ক্ষমতার পথে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও গত ১ বছরে কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডও চিন্তার কারণ। যদিও কোথাও কোথাও মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, জামায়াতকে মোকাবিলাই হবে চ্যালেঞ্জ। নীতি নির্ধারকরা বলছেন, চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। ঠিক হচ্ছে কৌশলও।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের অলিগলি থেকে রাজপথে নেতাকর্মীদের মিছিল মিটিং আর শোডাউনে দেখা মিলছে নির্বাচনী উত্তাপ। রঙিন পোস্টার আর ফেস্টুনের বর্ণাঢ্য প্রচারণা দেখে বোঝার উপায় নেই, তফসিলের বাকি এখনো প্রায় এক মাস। তবে, রাজনৈতিক দল ও সরকারের মাঝে দূরত্ব কমার কোনো লক্ষণ নেই। এর মাঝেই হঠাৎ করে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে দলটির কৌশল কী তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সামনে ক্ষমতার হাতছানি দেখছে, তখন বিভাজন তুঙ্গে মিত্রদের মাঝে। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাও নিম্নমুখী। ফলে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বিএনপি।
এদিকে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিতর্ক এবং মতভেদের মধ্যেই দেশজুড়ে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রায় সবকটি দল এখন নির্বাচনমুখী। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় বাড়িয়েছেন জনসংযোগ, হচ্ছে শোভাযাত্রা, চলছে মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৎপর অনেকে। কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভিন্ন কথা বললেও তাদের স্থানীয় নেতারা পিছিয়ে নেই নির্বাচনী প্রচারে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) জোরদার করেছে তাদের প্রস্তুতি। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বলা হয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত সোমবার ২৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণায় ব্যস্ত জামায়াতে ইসলামীও। দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় দেশবাসী তাকিয়ে আছে ভবিষ্যতের দিকে। সবমিলিয়ে রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী পালে লাগা হাওয়া আরও জোরে বইতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, আনুষ্ঠানিক তপশিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। দেশজুড়ে সর্বত্রই এখন নির্বাচনের ডামাডোল। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তারা ছোট ছোট ‘উঠান বৈঠক’ করছেন, যেখানে স্থানীয় সমস্যা শুনছেন এবং তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গণসংযোগের মাধ্যমে তারা নিজেদের পরিচিতি বাড়াচ্ছেন এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করছেন। প্রথাগত প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এখন প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে এবং দ্রুত বার্তা ছড়িয়ে দিতে অনেক প্রার্থী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী বলেছেন, তারুণ্যনির্ভর আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে এখনই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সময়। সব ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে যে কোনো মূল্যে আমাদের সফল করতে হবে। সম্প্রতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ায় এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি বদ্ধপরিকর। ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর বাংলাদেশের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চাই। এ সময় তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। উঠান বৈঠক শেষে কোনাপাড়া স্টেশন ও আশপাশ এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে প্রাণবন্ত এই গণসংযোগে যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ৬৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা ঈসমাইল ভূঁইয়া তুহিন, সিনিয়র সহসভাপতি মো: শুভ হোসেন বাবু, যাত্রাবাড়ি থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন মাদবর প্রমূখ। একইভাবে নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৫ আসন অন্তর্ভুক্ত ডিএসসিসির ৬৭ ও ৬৮ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত প্রার্থী (হাতপাখা প্রতীক) মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেবহাটায় গণসংযোগ করেছেন সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা- দেবহাটা) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ডাকসু নেতা শফিকুল ইসলাম শাহেদ। নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের ছয়টি আসনে আগাম প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদিন সভা-সমাবেশ, মিছিল, উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। একইভাবে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে আগাম প্রচার-প্রচারণা করছেন প্রার্থীরা।
এ বিষয়ে ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, বিএনপির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো জামায়াত। কারণ জামায়াত দীর্ঘ হোমওয়ার্ক করেছে। তারা তৃণমূলে অনেক কাজ করেছে। এটার একটা ফল তারা পাবে। তিনি মনে করেন, ৫ আগস্ট থেকে এমন অসম্ভব সব ঘটনা ঘটছে, যা প্রতিনিয়ত রাজনীতির গতিপথকে প্রভাবিত করছে। বিএনপিকে এই অসম্ভব চিন্তা মাথায় রেখেই নির্বাচনী কৌশল ঠিক করতে হবে।
এদিকে, দলটির ঘোষিত ২৩৭ আসনে, জায়গা হয়নি অনেক হেভিওয়েট নেতার। তাদের বেশিরভাগই কথা বলতে নারাজ। তবে, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানালেন। ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন, তার এত বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার-গৃহবধূর তকমায় আটকে গেছে। তিনি বলেন,এরশাদবিরোধী আন্দোলন আর হাসিনার আমলে আমি কী করিনি! আমি মারধরের শিকার হয়েছি, আমাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে, আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। আমাকে ৮০টি মামলার আসামি করা হয়েছে। তারপরও ৭ খণ্ড রামায়ণ পড়ে সীতা-রামের মাসি আমি এখন হারুনের বউ! এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে জোটসঙ্গীদের জন্য রাখা আসনগুলোয়। ঢাকা আঠারোয় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন এসএম জাহাঙ্গীর। মনোনয়নের পর বাড়ির সামনে সুনসান নীরবতা। কর্মী সমর্থকদের চেহারায় স্পষ্ট তাদের মনের অবস্থা। জাহাঙ্গীরের প্রশ্ন আরপিওর নতুন সংশোধনী জোটের নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে। এরইমধ্যে মনোনয়ন নিয়ে কোনো কোনো স্থানে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে। এমনকি প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। দলটির নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে আলাপে মোটা দাগে ৫টি চ্যালেঞ্জের কথা উঠে আসে। এগুলো হলো: অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, জোট কৌশল, আওয়ামীপন্থি ভোটার ও জামায়াত। এসবের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেব দেখছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে যারা এত বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করে দলের জন্য কাজ করেছেন, তারা তো অসন্তুষ্ট হবেই। আমরা যাদেরকে মনোনয়ন দিতে পারিনি, তাদেরকে উপযুক্ত সম্মান এবং সুযোগ দেব।
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের ১৩টি বামপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংশোধনী আইন, যার ফলে ভবিষ্যতে পৌরসভা নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৯ এ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে বগুড়া এবং শেরপুর দুটি আসনে আজ যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এর ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা থেকে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফ ...
সব মন্তব্য
No Comments