হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ বলায় অ্যাথলেটকে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে প্রতিবাদ

প্রকাশ : 01 Oct 2026
হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ বলায় অ্যাথলেটকে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ বলে একজন অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন তরুণ।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরে এই প্রতিবাদ জানান পাঁচ তরুণ। এই স্টেশনেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষক পুলিশের হেনস্তার মুখে পড়েন। 


সাজ্জাদ হোসেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয় মনে করেন এমন ব্যক্তিদের এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শিরোনামে খোলা একটি ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ ও ৮ হাজার ২০০ জন ‘ইন্টারেস্টেড’ দিয়েছিলেন। 


প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল সাতটার দিকে ফার্মগেটে আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন তিন তরুণ। তারা হলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার ও রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান। এসময় সাগর মজুমদার বলেন, ‘আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সে জন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সে জন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা।’ 


সাগর মজুমদার আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক।’ ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মেট্রোতে হাফপ্যান্ট পরে আসার অধিকারটা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। এটা একটা স্বাভাবিক পোশাক। সম্ভবত পাঁচ বছর পর আজকে একটা শর্টস খুঁজে বের করে পরে এখানে এসেছি শুধু অধিকারের কথা বলার জন্য।’ 


সকাল সাতটার পর শর্টস পরে মেট্রোরেলে ওঠেন সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান। তারা ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনের টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেন। একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের অন্য একটি ফটক দিয়ে আরও দুজন প্রতিবাদী তরুণ হাফপ্যান্ট পরে ওঠেন। তারা ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 


এর আগে ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে। ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ করান এবং নিজেও নিয়মিত দৌড়ান। ওইদিন সকালে রমনা পার্কে শরীরচর্চা শেষে ফার্মগেটে কাজ সেরে বিজয় সরণি যাওয়ার জন্য ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে যান তিনি। 


টিকিট কেটে স্টেশনে ঢোকার সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে নেন। ওই পুলিশ সদস্যের নেমপ্লেটে লেখা ছিল জাকির। তিনি সাজ্জাদকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই সব অশ্লীল ড্রেস পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না!’ এবং পোশাককে ‘অশালীন’ বলে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন। 


সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাকে বলা হয় এটি পাবলিক প্লেস, এখানে এভাবে যাওয়া যাবে না। এমনকি শর্টস খুলে রেখে ট্রাউজার পরে আসার কথাও বলা হয়। ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি, যেখানে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায় ‘আপনাকে বলা হয়েছে আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান।’ সাজ্জাদ প্রশ্ন করেন ‘কোনটা শালীনতা সেটি আপনার নিয়মে লেখা আছে?’ জবাবে পুলিশ সদস্য বলেন ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।’ 


এ বিষয়ে মেট্রোরেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেস কোড নেই। এই অপ্রয়োজনীয় হেনস্তা কেন করা হলো তা তিনি জানেন না। এদিকে ঘটনার পর এমআরটি পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজকদের ফেসবুক ইভেন্টে লেখা হয়েছিল, ‘এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ- স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’


সম্পর্কিত খবর

;