বুয়েটে ১০ম আন্তর্জাতিক পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 10 Mar 2025
বুয়েটে ১০ম আন্তর্জাতিক পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (আই ডব্লিউ.এফ.এম) তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা সম্মেলন (আই.সি.ডব্লিউ.এফ.এম-২০২৫) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের সম্মেলনটি পূর্ববর্তী আই.সি.ডব্লিউ.এফ.এম-২০২৩-এর মতোই সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর ভেন্যু হিসেবে ছিল সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (চামেলি হাউস, ১৭ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি, মিস ইনগে ক্লাসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ- উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আই.সি.ডব্লিউ.এফ.এম-২০২৫-এর আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক জি. এম. তারেকুল ইসলাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদ হোসেন।

হাইড্রোলজি, হাইড্রোডাইনামিক্স, মরফোলজি, বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান, জলবায়ু, পরিবেশ দূষণ, বাস্তুতন্ত্র, কৃষি, দুর্যোগ, ভালনারেবিলিটি, রিস্ক, লিঙ্গ, জীবিকা এবং দারিদ্র্যের মতো অসংখ্য উপশাখা থেকে আন্তঃবিভাগীয় জ্ঞান সাধারণভাবে এবং বন্যা ব্যবস্থাপনায় জল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজন। বিশেষ জলবায়ু পরিবর্তন এবং নৃতাত্ত্বিক হস্তক্ষেপগুলি শারীরিক এবং আর্থ- সামাজিক বিপদগুলিকে সংশোধন করার কারণে সম্পর্কিত বিষয়গুলির সাথে সম্পর্কিত প্রমাণ-ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমের চাহিদা বাড়ছে৷ এই উদ্দেশ্যে প্রকৃতি-ভিত্তিক প্রতিকারগুলির একীকরণের সাথে এই প্রক্রিয়াগুলি এবং তাদের মিথষ্ক্রিয়া মূল্যায়নের জন্য সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজন। এই সমস্যাগুলিকে একক প্ল্যাটফর্মে মোকাবেলা করার জন্য, ২০০৭ সাল থেকে দ্বিবার্ষিকভাবে পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (আইডব্লিউএফএম), বুয়েট দ্বারা আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের 'বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার দশক'-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রতিধ্বনি হিসেবে, জল ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার—একটি সমন্বিত পদ্ধতি হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশগত অবক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বনায়ন ও পুনঃবনায়ন (যেমন: ম্যানগ্রোভ বন), জলাভূমি পুনরুদ্ধার, নদী ও প্লাবনভূমির সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং টেকসই কৃষি অনুশীলন—এগুলো একাধিক বাস্তুতান্ত্রিক সেবা ও পারস্পরিক উপকারিতা প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে কার্বন সংরক্ষণ, মৎস্য ও অন্যান্য বাস্তুতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস এবং উপকূলীয় ক্ষয় কমানো। এছাড়াও, এ উদ্যোগগুলোর রয়েছে নানাবিধ পরিবেশগত, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সুবিধা, যা জীবিকা উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য, জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মানুষের জীবিকার সহায়তা এবং আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যপূর্ণ স্থানগুলোর সংরক্ষণ। বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে, জল ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারকে যথাযথ ব্যবস্থাপনা কৌশলের সাথে একীভূত করার বিষয়টি নতুন করে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, "জল ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ: জলবায়ু সহনশীলতার জন্য 

 


করণীয়"—এই থিমকে আই.সি.ডব্লিউ.এফ.এম-২০২৫ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের সম্মেলনের জন্য ২৬১টি গবেষণা সংক্ষেপ (অ্যাবস্ট্রাক্ট) জমা পড়ে, যার মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনার মাধ্যমে ১৯৫টি নির্বাচন করা হয়। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে ১৭৯টি গবেষণা নিবন্ধ সম্মেলনের জন্য গৃহীত হয়, যার মধ্যে ১৫০টি গবেষণা নিবন্ধ মৌখিক উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এগুলো ২৪টি প্রযুক্তিগত সেশনে তিন দিনব্যাপী উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া, ২৯টি গবেষণা নিবন্ধ পোস্টার প্রেজেন্টেশনের জন্য মনোনীত হয়েছে, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শিত হয়।

সম্মেলনের পূর্বে প্রি-কনফারেন্স প্রসিডিংস'-এ ১৭৯টি গবেষণা সংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়, যা সাম্প্রতিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, সম্মেলনের বিশেষ মানসম্পন্ন গবেষণা নিবন্ধগুলোর মধ্যে থেকে কিছু নির্বাচিত নিবন্ধ Springer Nature থেকে বই অধ্যায় হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

এই তিন দিনে ২৪টি প্রযুক্তিগত সেশন, ১টি পোস্টার সেশন, ২টি কি-নোট ভাষণ এবং ৪টি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আই.সি.ডব্লিউ.এফ.এম-২০২৫ সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানসমূহ হল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস), ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা), এম্বেসি অফ দ্য কিংডম অফ দ্য নেদারল্যান্ডস (ই.কে.এন.), ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আই ডব্লিউ.এম.) এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনিং নেটওয়ার্ক সেন্টার (আই.টি.এন-বুয়েট)।

আই.সি.ডব্লিউ.এফ.এম-২০২৫ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে বুয়েট-জাপান ডিজাস্টার প্রিভেনশন ও আরবান সেইফটি ইনস্টিটিউট (বুয়েট-জিডপাস), পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বুয়েট, পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনিং নেটওয়ার্ক সেন্টার (আই.টি.এন-বুয়েট), বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি), বাংলাদেশ ওয়াটার পার্টনারশিপ (বিডব্লিউপি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), রিভার রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আরআরআই), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) এবং পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো)৷

সম্পর্কিত খবর

;