সফটওয়্যারের মাধ্যমে হবে পুরো প্রক্রিয়া

প্রথমবার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি চালু

প্রকাশ : 03 Aug 2026
প্রথমবার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি চালু

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এতদিন এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্তদের জন্য সীমিত আকারে থাকলেও এবার সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের জন্য উন্মুক্ত বদলি ব্যবস্থা চালু হলো। এখন থেকে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে একই পদে বদলি হতে পারবেন শিক্ষকরা।


এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রথমে গত ২৭ জানুয়ারি ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে। পরে সংশোধন করে ৬ মে ২০২৬ সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। এই নীতিমালা বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।


নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রকাশ করবে। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুতকৃত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ, আদেশ জারি এবং যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। প্রতিবছর সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।


যোগ্যতা ও সুযোগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি করলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর আবার আবেদন করতে হলেও সেখানে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। বদলিকৃত শিক্ষকের ইনডেক্স আগের প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে এবং এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।


বদলি নীতিমালা অনুসারে, আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের যে কোনো জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংশ্লিষ্ট জেলায় (সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও এমপিওভুক্ত) বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে।


একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত মডেল ব্যবহার হবে। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন, তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি নয়। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।


বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। তবে বদলিকে অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলি হওয়া শিক্ষক টিএ-ডিএ ভাতা পাবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান, তারা বদলির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য-সংবলিত আবেদন বাতিল হবে এবং ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


মাউশি সূত্র জানায়, যত শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায় থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, শিক্ষক ও কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহের জন্য সফটওয়্যারে ডেটা এন্ট্রি চলছে, যা শেষ হবে ২৫ জুনের মধ্যে।


সম্পর্কিত খবর

;