কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যাতে বাংলাদেশের ওপর প্রভুত্ব তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ’: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

প্রকাশ : 24 Aug 2026
কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যাতে বাংলাদেশের ওপর প্রভুত্ব তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ’: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যাতে বাংলাদেশের ওপর প্রভুত্ব তৈরি করতে না পারে, সে জন্য তাঁরা সংকল্পবদ্ধ। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি।


রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘স্টালিনগ্রাদ খ্যাত’ রামপুরা-বনশ্রী অঞ্চলের আন্দোলনের ইতিবৃত্ত নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি যে দেশের প্রত্যেকটি সমস্যা যেভাবে দূর করা দরকার, পাশাপাশি জুলাইয়ের ইস্যুতে সুষ্ঠু সঠিক বিচারের মাধ্যমে আর কোনোদিনও যাতে ফ্যাসিবাদী শক্তির মাথাচাড়া দিতে না পারে, আর কোনোদিনও যাতে কোনো বিদেশী রাষ্ট্র যাতে বাংলাদেশের উপরে প্রভুত্ব তৈরি করতে না পারে, সেটার জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ।”


তিনি বলেন, এই কাজ একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে ।  তবে বাংলাদেশের প্রশ্নে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে এবং যেখানে বাংলাদেশের ইমেজের প্রশ্ন জড়িত রয়েছে, সেসব জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোটি কোটি মানুষের প্রত্যেকের নিজস্ব গল্প রয়েছে। নিজেদের আন্দোলনের স্পৃহা ও ঐক্যের ইচ্ছা থেকে তাঁরা রাজপথে নেমে এসে ‘খুনি স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী হাসিনা’কে দেশ থেকে বিতাড়িত করে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এটি আপামর জনগণের অর্জন।


তিনি বলেন, এই অর্জন করতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব তাঁদের, যারা আজ আমাদের মাঝে নেই এবং বিভিন্ন সময়ে শহীদ হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পাশাপাশি এর আগে বিভিন্ন আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের কথাও স্মরণ করেন তিনি।


ইশরাক হোসেন বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দসহ বহু নাম না জানা সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন। রিকশাচালক, দিনমজুর থেকে শুরু করে শিশু পর্যন্ত কেউ রেহাই পায়নি। আন্দোলনের প্রতিটি দিন ও প্রতিটি স্তর থেকে কেউ না কেউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।



শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  বাংলাদেশের মাটিতে সংঘটিত এই গণহত্যার বিচার করা না গেলে এবং কোনো কিছুর বিনিময়ে কাউকে পুনর্বাসন করা হলে এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।


জুলাইয়ের আহতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুরুতর আহত হয়ে যারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বা অঙ্গহানি হয়েছে, তাঁদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাঁদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই অধিদপ্তর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবাইকে এর আওতায় আনা হবে।


শহীদদের তালিকা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাঁদের দলীয় সূত্রে প্রায় ২ হাজার বা তার বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তালিকা করা সম্ভব হয়নি।


তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই নিম্নবিত্ত শ্রেণির ছিলেন। অনেকে পথশিশু ও ছিন্নমূল ছিলেন, যাঁদের পরিবার ছিল না। আবার দূর-দূরান্তের গ্রামের অনেক পরিবার জানে না কীভাবে ঢাকায় আসবে বা তাদের সহযোগিতা করার কেউ নেই। তাঁদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে শহীদদের তালিকা সম্পূর্ণ করা হবে এবং তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখা হবে।


দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ছোট হতে পারে, কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ। তাই বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা রয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে সামনের কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারলে বাংলাদেশ অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং এ অঞ্চলের নেতৃত্ব দিতে পারে।


জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বনশ্রীর পাশাপাশি যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, সায়েন্স ল্যাবসহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সবার নিজস্ব গল্প রয়েছে। এসব স্মৃতি সংরক্ষণ করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।


তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের শুরু ও পরিচয়। সেই মুক্তিযুদ্ধকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ধারণ করে দেড় দশক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে। আধিপত্যবাদী শক্তি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। সেই চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সম্পর্কিত খবর

;