প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়া

জুলাই সনদ, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যা বলেছেন তাতে অনৈক্য বাড়বে: বাসদ

প্রকাশ : 13 Nov 2025
জুলাই সনদ, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যা বলেছেন তাতে অনৈক্য বাড়বে: বাসদ


ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ আজ ১৩ নভেম্বর ২০২৫ সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ভাষণে নতুন কিছুই নাই, এতে জাতির আকাঙ্খার প্রতিফলনও ঘটেনি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যে কথা বলেছেন তা ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া প্রস্তাব ভিন্ন কিছু নয়। ভাষণে সনদ বাস্তবায়নে আদেশ, একই দিনে জাতীয় সংসদ ও গণভোটের যে কথা বলা হয়েছে তাতে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য বেড়ে গিয়ে দেশ এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটে নিপতিত হতে পারে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। সংবিধান মেনে চলা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন বলে। আমাদের সংবিধানে আদেশ জারি বা গণভোটের কোন বিধান নাই। রাষ্ট্রপতি কেবল অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে সংবিধান পরিপন্থী কাজ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে কমরেড ফিরোজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গণভোট ও আদেশ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাতে দলগুলোর নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ না। অথচ প্রধান উপদেষ্টা ১৭ অক্টোবর ২০২৫ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যে সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন তাতে নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ ছিল। কিন্তু আজ যে আদেশ ও যেভাবে গণভোটের কথা বলা হয়েছে তাতে নোট অব ডিসেন্ট না রাখাটা ড. ইউনুসের নিজের সাথে নিজের এবং রাজনৈতিক দল ও জাতির সাথে প্রতারণার সামিল।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার ও ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলের ওপর কোন কিছু চাপিয়ে দিতে পারে না।

ঐকমত্য কমিশনে যে সব বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে সেগুলো নিয়েই হতে হবে জুলাই সনদ। আর সংবিধান সংশোধনের একমাত্র এখতিয়ার কেবলমাত্র নির্বাচিত জাতীয় সংসদের। তাছাড়া একটা সময় পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮০ দিন জাতীয় সংসদ দ্বৈত সত্তা নিয়ে চলবে, অর্থাৎ একই সাথে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার যে কথা বলা হয়েছে। এটাও সংবিধান পরিপন্থী এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে কোন ঐকমত্য হয়নি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বলে গণভোট সম্পর্কে দেশবাসীর ধারণা খুবই খারাপ। তাই আমরা মনে করি উচ্চ কক্ষ, গণভোট ইত্যাদি শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়, দেশের অর্থের অপচয়ের একটা পদক্ষেপ মাত্র।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, গোটা দেশ-জাতি আজ তাকিয়ে আছে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। ফলে আদেশ, গণভোট, উচ্চ কক্ষ ইত্যাদি বিষয় বাদ দিয়ে দ্রæত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও তফসিল ঘোষণা করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত খবর

;