হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বন্ধুত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন ট্রাম্প ও শি

প্রকাশ : 25 Sep 2026
হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বন্ধুত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন ট্রাম্প ও শি

বিশেষ প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বন্ধুত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত এই নৈশভোজে দুই রাষ্ট্রপ্রধান বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তির সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 


চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফর ২০১৫ সালের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর। চলতি বছরে এটি দুই নেতার দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক, এর আগে মে মাসে ট্রাম্প বেইজিং সফর করেছিলেন। সফরের শুরুতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে শি ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে বিমানবন্দরেই অভ্যর্থনা জানান, যা প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে উষ্ণতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর হোয়াইট হাউসে ৪৭৯ জন সামরিক সদস্যের অংশগ্রহণে পূর্ণ সামরিক সম্মাননা, বি-১ বোমারু বিমানের ফ্লাইপাস্ট ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। 


নৈশভোজে ভাষণ দিতে গিয়ে শি জিনপিং বলেন, ইতিহাস কখনো থেমে থাকে না, নদীর মতো বয়ে চলে। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব একটি মহৎ উদ্যোগ যার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই পক্ষের উচিত হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলা, চীন-মার্কিন বন্ধুত্বের সুন্দর ফুলগুলোকে লালন করা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নতুন অধ্যায় রচনা করা। 


শি আরও বলেন, এই সফরে অনেক বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়া হয়েছে যা কৌশলগত স্থিতিশীলতার গঠনমূলক চীন-মার্কিন সম্পর্ককে নতুন উপাদান যুগিয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। 


অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ২০১৬ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার সময় থেকেই প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এক সত্যিকারের মহান বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন। তিনি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। 


বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলো বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বিদ্যমান শুল্ক স্থগিতাদেশ ১০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বর্ধিত করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের আশঙ্কা আপাতত এড়ানো গেল। 


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। শি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ও দায়িত্ব রয়েছে যাতে এআই মানব নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অপব্যবহার রোধ করা যায়। তাইওয়ান, ফেন্টানাইল, সামরিক যোগাযোগ এবং ইরান ইস্যুতেও আলোচনা হয়।


নৈশভোজ ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। মেনুতে ছিল ইয়েলো স্কোয়াশ ভেলুটে, সিসেম-ক্রাস্টেড সি বাস এবং হোয়াইট হাউসের মধু দিয়ে তৈরি ভ্যানিলা ক্রেমো ডেজার্ট। ১৯৭২ সালে নিক্সন ও ঝো এনলাইয়ের ঐতিহাসিক টোস্টকে স্মরণ করে স্ক্র্যামসবার্গ ব্ল্যাঙ্ক ডি নোয়ার স্পার্কলিং ওয়াইন দিয়ে টোস্ট করা হয়। 


অতিথি তালিকায় ছিলেন বিশ্ব প্রযুক্তির শীর্ষ ব্যক্তিরা - অ্যামাজনের জেফ বেজোস, টেসলার ইলন মাস্ক, গুগলের সুন্দর পিচাই, অ্যাপলের টিম কুক, ওপেনএআইর স্যাম অল্টম্যান এবং মেটার মার্ক জাকারবার্গসহ অনেকে। এই উপলক্ষে ট্রাম্প শি-কে প্রায় তিন ফুট উঁচু একটি বাল্ড ঈগলের মূর্তি উপহার দেন যা একজন মার্কিন শিল্পী ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সহযোগিতায় তৈরি করেছেন।


শি তার বক্তব্যে ৮০ বছরেরও বেশি আগে জাপানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা ও মার্কিন জনগণের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই এবং ৫০ বছর আগের পিং-পং ডিপ্লোম্যাসির কথা স্মরণ করেন। তিনি আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ মার্কিন শিক্ষার্থীকে চীনে আমন্ত্রণ এবং আটলান্টা চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দেন।


সম্পর্কিত খবর

;