জাসদের ২৭৮ জনের মধ্যে ২৫১ জন মুক্ত, ২৭ জনকে আদালতে প্রেরণ, মব হামলার নিন্দা

প্রকাশ : 27 Sep 2026
জাসদের ২৭৮ জনের মধ্যে ২৫১ জন মুক্ত, ২৭ জনকে আদালতে প্রেরণ, মব হামলার নিন্দা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৫১ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এরমধ্যে ২৭ জনকে আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে কোর্টে বিচারক না থাকায় শুনানি করা যায়নি বলে জানা গেছে।


এর আগে আজ বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাসদের নেতাদের কাছ থেকে কাগজপত্র ও নেতা-কর্মীদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যারা বয়োবৃদ্ধ রয়েছেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদেরও পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেখান থেকে তাদের সেইভ করেছি নিরাপদে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া হেফাজতে নিতে পেরেছিলাম। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।


পুলিশের কাছ থেকে তাদের এই প্রোগ্রামের কোনো অনুমতি নেওয়া ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু তাদের সেখানে মিটিং করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। একটি পক্ষ ওই জাসদ কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই কার্যালয়ের দখলের কোনো সুযোগ নেই, কার্যালয়টি এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে।


এর আগে শনিবার দুপুরের পর পুলিশ জানিয়েছিল, জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। শনিবার ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন।


এদিকে জাসদের অফিসে হামলা ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাম প্রগতিশীল দলগুলো। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক কমরেড লুনা নূর আজ নগর কমিটির সভা থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) অফিসে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ও সরকারদলীয় এবং অপরাপর গোষ্ঠীর মব ও গণগ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে এই ধরনের মব সংস্কৃতি বন্ধ ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন।


একইভাবে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জাসদ কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল নয়। দলটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর কোনো রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞাও নেই। জাসদের দাবি অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভায় সারাদেশ থেকে নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বৈধ রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সরকারি দলের যুব সংগঠনের নেতাকর্মীর মব সৃষ্টি করে হামলা ও পুলিশ দিয়ে একসঙ্গে শত শত মানুষকে আটক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আটকদের মুক্তি দাবি করেন।


বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ আজ ২৬ সেপ্টেম্বর সংবাদপত্রে দেওয়া বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ জাসদ কার্যালয়ের কর্নেল তাহের মিলনায়তনে দলীয় প্রতিনিধি সভা চলার সময় মব সন্ত্রাস ও পুলিশ কর্তৃক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মিছিল, মিটিং, সমাবেশ করা নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। জাসদ কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, কিন্তু মব সন্ত্রাস ও হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া গণতন্ত্রের পরিপন্থী। একই বিবৃতিতে তিনি গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ এ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।


সম্পর্কিত খবর

;