সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে শিক্ষার্থীদের হয়রানি

প্রকাশ : 19 Jan 2025
সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে শিক্ষার্থীদের হয়রানি


বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বাংলাদেশে গত আগস্টের অভ্যূথানের পর অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, বিশেষ করে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। অনেক শিক্ষক, শিক্ষা-প্রশাসক, অধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তাৎক্ষণিক নোটিশে বা রাতারাতি কোনো নোটিশ ছাড়াই পদত্যাগ করতে এবং কর্মস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। একই ভাবে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে, সিসিএন ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কর্তৃত্ব নিয়েছে নতুন গভর্নিং বডি , যেখানে পুরানো পরিচালকদের অনেকেই সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে কার্যত সক্রিয় নন, অন্যথায় পলাতক বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।


উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, এবং অনেকই বিদেশে অধ্যয়ন বা চাকরির উদ্দেশ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র যাচাইকরণের জন্য গুরুতর হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সিসিএন ইউনিভার্সিটি'র অসহযোগিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অনেক শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে জানান। দেখা গেছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতির সমাধানের জন্য প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসে উপস্থিত হচ্ছে।


পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেছেন যে, তিনি বিদেশে বসবাস করেন, এবং উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজনে তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। এই ক্ষেত্রে, সিসিএন ইউনিভার্সিটি একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে যা সেই দেশে তার অধ্যয়নের বিষয়টি হুমকির মুখে ফেলেছে, যদিও তার একাডেমিক সার্টিফিকেট গুলি আগেই সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথভাবে যাচাই এবং সত্যায়িত করা হয়েছিল। অন্য একজন বাংলাদেশীও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, যিনি কানাডায় এক্সপ্রেস এন্ট্রি মাইগ্রেশনের জন্য সিসিএন ইউনিভার্সিটি'র ডিগ্রির কানাডিয়ান স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সিসিএন ইউনিভার্সিটির ভুল রিপোর্ট তাকে যারপরনাই জটিল সমস্যায় ফেলেছে।


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত ভুক্তভোগীদের পক্ষে তাদের আত্মীয়-স্বজন বা অনুমোদিত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে, তারা মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয় যে আগের সব কাগজপত্র অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হবে। তবে পূর্ববর্তী পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, ভর্তি-বাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তৎসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনেক পুরোনো নিবন্ধন বা সার্টিফিকেট হয় স্থগিত রাখা হয়েছে নতুবা বাতিল করা হয়েছে।


এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অসতর্কতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা বা চাকরির জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিচ্ছে তা জানতে রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করা হলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সম্পর্কিত খবর

;