আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

প্রকাশ : 07 Nov 2026
আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার: আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছিল বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এই ঘটনার ৫১তম বার্ষিকী আজ। 


দিবসটির পটভূমি বুঝতে ফিরে যেতে হয় ১৯৭৫ সালের মধ্য আগস্ট থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের দিকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। এরপর ক্ষমতায় আসেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। এই অস্থিরতার মধ্যে ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়, যা জেলহত্যা নামে পরিচিত। একই দিন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থান হয় এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে। 


এরপর ৬ নভেম্বর গভীর রাত থেকে ৭ নভেম্বর ভোরে ঢাকা সেনানিবাসে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে প্রতিরোধ শুরু হয়। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সৈনিকেরা কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নেতৃত্বে সংগঠিত হন বলে ইতিহাসবিদরা লিখেছেন। এই অভ্যুত্থানে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ নিহত হন এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। পরবর্তীতে তাঁর ক্ষমতায় আসা ও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথ সুগম হয়। 


সেদিন ঢাকার রাস্তায় হাজারো মানুষ নেমে আসেন এবং সৈনিক ও সাধারণ মানুষের যৌথ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার ঘোর কাটিয়ে নতুন যাত্রা শুরু হয় বলে দিবসটির পক্ষে বক্তব্যে বলা হয়। রাস্তায় সৈন্যরা ‘সিপাহী-জনতা জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন বলেও বিবরণে রয়েছে। এই ঘটনাকে সিপাহী-জনতার বিপ্লব নামে অভিহিত করা হয়। 


তবে ৭ নভেম্বরকে নিয়ে ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দিনটিকে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দিনটিকে নেতিবাচকভাবে দেখে এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ আছে। ওই অভ্যুত্থানে ৪৩ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন বলেও তথ্যে পাওয়া যায়। 


দিবসটি এক সময় সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতো। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দিবসটি বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে দিবসটি আবার আলোচনায় আসে। ২০২৬ সালে দিবসটি পুনরায় সরকারি ছুটি হিসেবে পুনর্বহালের তথ্যও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। 


এবারের বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিএনপি ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি পালন করছে। 


কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে। 


ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ঐক্যের প্রশ্নে এখনো আলোচিত একটি দিন। এই দিনের ঘটনাবলি পরবর্তী রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ফলে অর্ধশতাব্দী পরও দিনটি নিয়ে গবেষণা, আলোচনা ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;