রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও অলি আহমেদের মনোনয়ন বৈধ

প্রকাশ : 16 Aug 2026
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও অলি আহমেদের মনোনয়ন বৈধ

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ খুলে গেল।


রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। সকালে অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি এবং অলি আহমেদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাইয়ে প্রত্যেক প্রার্থীর একটি করে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় একই প্রার্থীর অন্য মনোনয়নপত্রটি নিয়ম অনুযায়ী আর প্রয়োজন হয়নি। ফলে কার্যত দুইজন বৈধ প্রার্থী থাকলেন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমেদ।


বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গত ১৩ আগস্ট বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ভবনে গিয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।


অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমেদের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং সমর্থক ছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আল-আমিন। ১৩ আগস্ট অলি আহমেদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে একটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।


এর আগে ১৩ আগস্ট বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।


অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে প্রার্থী করেছে। এর ফলে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় ভোটার তালিকায় ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই ব্যালট গণনা করে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা সিইসি। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটে হয় না। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোটাভুটির প্রয়োজন হচ্ছে। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।


ইসি জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণে ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা করা হবে এবং নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি ফল ঘোষণা করবেন।


এদিকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণে দুই প্রার্থী থাকছেন কি না। বর্তমানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমেদ—দুজনের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে।

সম্পর্কিত খবর

;