পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ার আহ্বান

ডিএসসিসির ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবে হেরিটেজ রান

প্রকাশ : 15 Aug 2026
ডিএসসিসির ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবে হেরিটেজ রান

স্টাফ রিপোর্টা: রাজধানী ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নাগরিকদের সামনে তুলে ধরা এবং নগরের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে এ আয়োজন করা হয়।


রাজধানীর ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসব উদযাপন করছে ডিএসসিসি। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেরিটেজ রান শুরু হয়।


রানের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।


আয়োজনে এক হাজারের বেশি নাগরিক অংশ নেন। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া রানের পথ ছিল—কাকরাইল মোড়, রমনা, শাহবাগ মোড়, কাটাবন মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পলাশী মোড়, লালবাগ কেল্লা, শহীদনগর মোড় হয়ে সোয়ারিঘাট লঞ্চঘাট। সেখানেই রানের সমাপ্তি হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক রানারকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ দেওয়া হয়।


উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে খেলাধুলার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার ঐতিহ্যকে ধারণ করে ডিএসসিসি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে রাজধানীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য আরও পরিচিত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল—আমার শহর ঢাকা, যাকে নিয়ে আমার গর্ব করা উচিত। আজকের হেরিটেজ রানে অংশ নিয়ে আপনারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। কোথাও ভালো রাস্তা, কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত—এটাই ঢাকার বাস্তবতা। এই বাস্তবতার মধ্যেই নগরবাসীর জীবনযাত্রা আরও সুন্দর করতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা না ফেললে এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে ঢাকাকে আরও সুন্দর রাখা সম্ভব। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’


প্রথমবারের মতো হেরিটেজ রান আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আয়োজনে কিছু ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। ভবিষ্যতে সেগুলো সংশোধন করে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি পুরান ঢাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন এবং হাঁটা ও দৌড়ের উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।


নগরবাসীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার দায়িত্ব আমি পালন করব, আপনার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এই ঢাকা শহর আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আসুন, দেখি—এটাই আমার ঢাকা শহর। এই শহরেই আমাকে থাকতে হবে, তাই শহরটাকে আরও সুন্দর করতে হবে।’



‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের পরবর্তী আয়োজন


মাসব্যাপী এ উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী দিনগুলোতে থাকছে নানা সাংস্কৃতিক, ঐতিহ্যবাহী ও নাগরিক আয়োজন।


১৬–২২ আগস্ট: সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত মঞ্চনাটক ও নাট্যোৎসব।

২১ আগস্ট: খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।

২১ আগস্ট: সদরঘাটে শতবর্ষী বিশেষ হেরিটেজ ক্রুজে পর্যটকদের ভ্রমণ।

২২ আগস্ট: মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন।

২১–৩০ আগস্ট: ঢাকার বিপণিবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’।

২১–৩০ আগস্ট: ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’—ঢাকাকে নিয়ে নাগরিকদের আবেগ ও ভালোবাসার চিঠি আহ্বান।

২১–২৮ আগস্ট: শিল্পকলা একাডেমিতে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত মঞ্চনাটক।

২৩–২৯ আগস্ট: বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরোনো নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার।

২৪ আগস্ট: উত্তর ধানমণ্ডির জয়নুল হক শিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ‘পাখির চোখে হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসব প্রদর্শন।

২৮ আগস্ট: লক্ষ্মীবাজার থেকে নগরভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ ঢাকা শোভাযাত্রা।

২৯ আগস্ট: বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা।

৩০ আগস্ট: লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালীসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১ সেপ্টেম্বর: শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্প।

৫ সেপ্টেম্বর: আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডা।


সম্পর্কিত খবর

;