ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৪

প্রকাশ : 15 Aug 2026
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় নুসা তেংগারা প্রদেশে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুজন এবং সামান্য আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের নেগেকেও এলাকার উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ।


ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌতিক সংস্থা বিএমকেজি (BMKG) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেগেকেও জেলার মবে এলাকার উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনটি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালীভাবে অনুভূত হয়।


বিএমকেজির হিসাবে, নেগেকেও, এনগাদা ও সিক্কা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের তীব্রতা বেশ শক্তিশালী ছিল। ফ্লোরেস দ্বীপের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সুম্বা, আদোনারা ও সোলোর দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়। এমনকি পশ্চিম নুসা তেংগারার লমবক এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির কয়েকটি এলাকাতেও মানুষ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভব করেন।


ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় পূর্ব নুসা তেংগারা, পশ্চিম নুসা তেংগারা ও দক্ষিণ সুলাওয়েসির বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। প্রাথমিক মডেলিংয়ের ভিত্তিতে কোনো কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তিন মিটার পর্যন্ত সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল বিএমকেজি। উপকূলীয় বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


পরবর্তী পর্যবেক্ষণে উপকূলের কয়েকটি এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রপৃষ্ঠের ওঠানামা বা সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়। সিক্কায় প্রায় ০.১৯ ও ০.৩৮ মিটার, পূর্ব ফ্লোরেসে ০.২৫ মিটার, লাবুয়ান বাজোতে ০.৩৬ মিটার, আলোরে ০.১৪ মিটার এবং এন্দেতে সর্বোচ্চ প্রায় ০.৯৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। পশ্চিম নুসা তেংগারার ডোম্পুতেও প্রায় ০.১৭ মিটারের ঢেউ শনাক্ত হয়। এরপর বিএমকেজি সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে।


ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশকও অনুভূত হয়। এর মধ্যে ৬ দশমিক ২ মাত্রার দুটি কম্পন যথাক্রমে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৩ মিনিট ও ৬টা ২৮ মিনিটে রেকর্ড করা হয়। আফটারশক এবং ধসে পড়া স্থাপনার কারণে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।


ভূমিকম্পে বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মাউমেরে শহরের একটি বন্দরের অপেক্ষাকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখান থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তারা একজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে উদ্ধার ও ত্রাণ সংস্থাগুলো আরও হতাহতের তথ্য পাওয়ায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।


ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা BNPB জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।


সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে না ঢোকা, সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ফ্লোরেস ব্যাক-আর্ক থ্রাস্ট ফল্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ফল্টে ৭ দশমিক ৮ থেকে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। একই অঞ্চলে ১৯৯২ সালেও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।


ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এবারের ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ভূ-ভৌতিক সংস্থাগুলো। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

;