বৈঠাকাটা ভাসমান বাজারে জমজমাট ভেলা বাইচ, অংশ নিল ৩২টি ভেলা

প্রকাশ : 15 Aug 2026
বৈঠাকাটা ভাসমান বাজারে জমজমাট ভেলা বাইচ, অংশ নিল ৩২টি ভেলা

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ভাসমান বাজারসংলগ্ন বেলুয়া নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ভেলা বাইচ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ৩২টি ভেলা।


ভেলা বাইচকে ঘিরে বৈঠাকাটা ভাসমান বাজার ও বেলুয়া নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী জড়ো হন। কেউ নদীর তীরে, কেউ নৌকায়, আবার কেউ ভাসমান বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ক্রীড়া আয়োজন।


প্রতিযোগিতা শুরু হলে বৈঠা হাতে প্রতিযোগীরা দ্রুতগতিতে নদীর পানিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। একের পর এক ভেলার ছুটে চলা এবং প্রতিযোগীদের উচ্ছ্বাসে পুরো নদীজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. আরিফুল হাসান উজ্জ্বল, সদস্যসচিব মো. মাহবুবুর রহমান (শানু), ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য প্রিন্স, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. এনায়েত করিম, সদস্যসচিব জুয়েল কিশোর এবং বৈঠাকাটা ইসলামী ব্যাংক আউটলেট শাখার স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান।


আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় যুবসমাজের মো. শাহরিয়ার পারভেজ (জয়), মো. সজীব আহমেদ, মো. আরিফ, মো. সজিব ও মো. রিয়াজসহ আরও অনেকে।


আয়োজকরা জানান, তরুণদের মাদক, ইভ টিজিং ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখা এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।


ভেলা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থীরা বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যের এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতি বাড়ায়। দীর্ঘদিন পর এ ধরনের আয়োজন দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়মিত ভেলা বাইচ আয়োজনের দাবি জানান তারা।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন নিয়মিত হলে একদিকে যেমন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মও খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

সম্পর্কিত খবর

;