বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী থাইল্যান্ড

প্রকাশ : 13 Aug 2026
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী থাইল্যান্ড


স্টাফ রিপোর্টার: বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের এটি পঞ্চম দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি হতে যাচ্ছে।


বুধবার (১২ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কর্মী নিয়োগ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।


বৈঠকে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, ভিসা প্রক্রিয়া, মানবপাচার প্রতিরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নৈতিক, দায়িত্বশীল ও সুরক্ষিত নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপনও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে বাংলাদেশ গভীরভাবে প্রশংসা করে।


তিনি বলেন, নৈতিক ও দায়িত্বশীল শ্রমিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি, ন্যায্য মজুরি, উপযুক্ত আবাসন, চিকিৎসা বীমা এবং কর্মীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।


প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল জনশক্তি। দুই দেশের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য থাই প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান তিনি।


মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডে নির্মাণ ও অন্যান্য খাতের ‘ব্লু কলার’ কর্মীর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশায় ‘হোয়াইট কলার’ কর্মীরও প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশে এসব খাতের জন্য উপযুক্ত ও দক্ষ কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত দিক থেকেও থাইল্যান্ড বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য হতে পারে।


তবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে অভিবাসন এবং কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব বিষয়ে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সচিব।


থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটি থেকে নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। এতে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে কর্মী নিয়োগের চুক্তি করতে আগ্রহী থাইল্যান্ড।


বৈঠকে থাই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থাইল্যান্ডে অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয় রয়েছে। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।


থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয় নিষ্পত্তি করে অচিরেই সমঝোতা স্মারক সই করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


বৈঠকে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক, শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপনসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এম এম এইচ গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মো. মেহেদী সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

;