সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল

আমেরিকার সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি না করার আহাবান

প্রকাশ : 05 Mar 2026
আমেরিকার সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি না করার আহাবান

ডেস্ক রিপোর্ট: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আজ ৫ মার্চ ২০২৬ সংবাদপত্রে দেওয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে

অন্তর্বর্তী সরকারের একতিয়ার বহির্ভুতভবে নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন পূর্বে আমেরিকার সাথে সম্পাদিত অন্যায্য

বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের জন্য নব নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বাণিজ্যঘাটতি দূর করতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের

ওপর রেসিপ্রোকাল শুল্ক আরোপ করে বিভিন্ন দেশকে আমেরিকার কাছে নতজানু করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ সরকার

জনমত উপেক্ষা করে গোপনে তড়িঘড়ি করে আমেরিকার সাথে অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করে। পরবর্তীতে

মার্কিন ফেডারেল কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ অবৈধ ঘোষণা করে, কিন্তু তারপরও ট্রাম্প ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক

আরোপ করার কথা নিবাহী আদেশে ঘোষণা করে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার বাণিজ্য চুক্তি প্রকাশ না করলেও চুক্তির যে সব শর্ত গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে

তাতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় অপ্রয়োজনীয় ১৪টি বেয়িং বিমান ক্রয়, বেশি দামে এলএনজি

ক্রয়, তুলা-গমসহ ৪২ হাজার কোটি টাকার কৃষি পণ্য ক্রয় এবং সামরিক সরঞ্জাম আমেরিকা থেকে ক্রয়ে বাধ্য হবে যা

দেশের স্বার্থের পরিপন্থি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অনির্বাচিত সরকারের মার্কিন স্বার্থে করা চুক্তি নির্বাচিত সরকার মানতে বাধ্য নয়।

নেতৃবৃন্দ বাণিজ্য চুক্তি জনসন্মুখে প্রকাশ এবং সংসদে আলোচনা করে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি

জানান।

নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত ৩ মার্চে আমেরিকার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর দিল্লি হয়ে বাংলাদেশে এসে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং

সরকারি ও বিরোধী দলের সাথে বৈঠক করেছে। বৈঠকের পর তিনি সন্তোস প্রকাশ করে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের এবং

প্রতিরক্ষা চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা যিনি বাণিজ্য চুক্তির

ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন তিনিই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায়

মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো তিনি বলেছেন, বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতেই

বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। ফলে বিএনপি এবং জামায়াতকে এব্যাপরে জাতির কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য

নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ও প্রতিরক্ষা চুক্তি না করার জন্য সরকারের প্রতি জোর

দাবি জানান। একই সাথে বিগত দিনে ভারত-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি প্রকাশ ও জাতীয়

স্বার্থ বিরোধী চুক্তিসমূহ বাতিলের দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ

ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদ-

এর সভাপতি শরিফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক

ইকবাল কবীর জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক

মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত

সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ।


সম্পর্কিত খবর

;