আতিকুল ইসলাম টিটু: বিশ্ব রাজনীতি এখন এক রূপান্তরপর্বে। একক মেরুকেন্দ্রিক আমেরিকান আধিপত্যের যুগ চ্যালেঞ্জের মুখে; চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে বহুমেরু শক্তির উত্থান দৃশ্যমান। কিন্তু হেজেমনিক শক্তি তার প্রভাব বলয় সহজে ছেড়ে দেয় না। বরং নতুন কৌশলে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে, নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলে প্রভাব পুনর্গঠন করে। দক্ষিণ এশিয়ায় সেই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশকে ক্রমশ সাম্রাজ্যবাদীদের একটি নিরাপত্তা বলয়ের দিকে টেনে নেওয়ার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান।
এই প্রেক্ষাপটে General Security of Military Information Agreement (GSOMIA) এবং Acquisition and Cross-Servicing Agreement (ACSA) কেবল প্রশাসনিক নথি নয়; এগুলো ভূরাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের দলিল।
হেজেমনিক স্থিতি ও নিরাপত্তা স্থাপত্য
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্বে হেজেমনিক স্থিতি (Hegemonic Stability Theory) বলে—একটি প্রভাবশালী শক্তি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নিয়ম তৈরি করে এবং নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সেই ভূমিকা পালন করছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ইতোমধ্যে দৃঢ় হয়েছে ভারতে-এর সাথে।
এখন বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি ‘মিসিং লিংক’।
বাংলাদেশে বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সফর করছেন এস. পল কাপুর (S. Paul Kapur)। তিনি United States Assistant Secretary of State for South and Central Asian Affairs পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশে দুই দিনের সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি সরকার ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর-এর সফরকে তাই নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এটি বৃহত্তর নিরাপত্তা স্থাপত্যের অংশ—যেখানে তথ্য, লজিস্টিক ও প্রতিরক্ষা আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে একটি অদৃশ্য কিন্তু কার্যকর জোট গড়ে ওঠে। ঢাকায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর-এর ২ দিনের সফর (৩–৫ মার্চ ২০২৬) শুধু একটি কূটনৈতিক সাক্ষাৎ নয়; এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম সংকটকেন্দ্রিক ও সময়োপযোগী মোড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এই সফর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা স্থাপত্যে ভূমিকা এবং বড় শক্তির সাথে সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে যখন জিসোমিয়া (GSOMIA) ও আকসা (ACSA) নিয়ে আলোচনা তীব্র হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা বাড়ছে, এবং বাংলাদেশ নিরপেক্ষতা নীতি রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষায় বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা নীতির থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু GSOMIA ও ACSA কেবল তথ্য বা লজিস্টিক শেয়ার নয়—এগুলো বৃহৎ নিরাপত্তা স্থাপত্যের অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি হেজেমনিক শক্তি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
GSOMIA প্রযুক্তি আদান প্রদানের নামে এমন একটি কাঠামো তৈরি করে যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নির্ভরতা নির্দিষ্ট একটি বলয়ের দিকে টেনে নিতে পারে। আর ACSA লজিস্টিক সহযোগিতার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথকে সহজ করে দিতে পারে; যদিও তা সরাসরি ঘাঁটির চুক্তি নয়।
এই দুটি চুক্তি এখন বাংলাদেশে নীতিগত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে—কারণ এগুলোকে কেউ কেউ ভবিষ্যতের কৌশলগত অনিশ্চয়তা ও নির্দিষ্ট শক্তির বলয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হিসেবে দেখে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরে একটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে—“সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়।” কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় এই নীতি রক্ষা করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন। ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিযোগিতা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর নতুন করে অবস্থান নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এক সূক্ষ্ম কৌশলগত মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য দুটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি—
General Security of Military Information Agreement (GSOMIA) এবং
Acquisition and Cross-Servicing Agreement (ACSA)—
নিয়ে আলোচনা নিছক কারিগরি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণের প্রশ্ন।
এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর-এর বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর ইরান প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য এই সমগ্র প্রক্রিয়াকে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।
পল কাপুরের সফর: সৌজন্য না কৌশলগত চাপ?
সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সফরকে একদিকে সৌজন্য ভিজিট হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এর পেছনে একটি বড় কৌশলগত পর্যালোচনা কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইন্দো প্যাসিফিক কৌশলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। বঙ্গোপসাগর ও এর নিরাপত্তা বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই এই সফর কেবল আঞ্চলিক সমর্থন বা কূটনৈতিক সৌজন্য নয়—এটি একটি রুক্ষ কৌশলগত আপ্রোচ।
এতে আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল:
• প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
• বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সম্প্রসারণ
• রোহিঙ্গা ইস্যু
• জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নীতিগুলি
জিসোমিয়া: তথ্যের বিনিময় নাকি সার্বভৌমত্বের সীমারেখা?
GSOMIA মূলত গোপন সামরিক তথ্য সুরক্ষার কাঠামো। কিন্তু তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ মানে নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রভাব বিস্তার। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ঐতিহাসিকভাবে বহুমুখী—China, Russia এবং পশ্চিমা উৎসের মিশ্রণ।
এখানেই সৃষ্টি হয় নিরাপত্তা দ্বন্দ্ব (Security Dilemma)। এক শক্তির সাথে ঘনিষ্ঠতা অন্য শক্তির সন্দেহ তৈরি করে। উদাহরণ হিসেবে Turkey-এর S-400 missile system কেনা এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের F-35 Lightning II কর্মসূচি থেকে বহিষ্কার হওয়ার ঘটনা প্রাসঙ্গিক।
অর্থাৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়—এটি রাজনৈতিক আনুগত্যের সংকেত।
আকসা ও লজিস্টিক রাজনীতি: ঘাঁটি ছাড়াই প্রভাব
ACSA-কে ঘাঁটি চুক্তি বলা হয় না। কিন্তু আন্তর্জাতিক সামরিক রাজনীতিতে “ঘাঁটি” কেবল স্থায়ী অবকাঠামো নয়—বরং নিয়মিত উপস্থিতি ও লজিস্টিক প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন।
যদি একটি হেজেমনিক শক্তি কোনো দেশের বন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে, তবে সেই দেশ কার্যত তার নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের অংশে পরিণত হয়।
Philippines ও Australia-এর অভিজ্ঞতা দেখায়—লজিস্টিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে কৌশলগত নির্ভরতায় রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশ কি সেই পথে হাঁটতে প্রস্তুত?
ইরান প্রসঙ্গ: কূটনৈতিক অবস্থান না কৌশলগত বার্তা?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মন্তব্য করেছেন—“কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের হামলা কোনোও অজুহাতে মেনে নেওয়া যায় না।” নীতিগতভাবে এটি আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান। কিন্তু ভূরাজনীতিতে ভাষা কখনো নিরপেক্ষ থাকে না। Qatar-এ অবস্থিত Al-Udeid Air Base মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম কেন্দ্র। অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে তার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভাষ্য যদি একপাক্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়, তবে তা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে ধরা পড়তে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বড় প্রশ্নগুলো
১.বাংলাদেশ কি ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিযোগিতায় ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’ হয়ে উঠছে?
২.জিসোমিয়া ও আকসা কি ধীরে ধীরে এক নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ হওয়ার সূচনা?
৩.ইরান প্রসঙ্গে কঠোর ভাষ্য কি কৌশলগত পুনঃঅবস্থান নির্দেশ করছে?
৪. নাকি এগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপ?
হেজেমনিক শক্তি সবসময় বন্ধুত্বের ভাষায় প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু ইতিহাস দেখায়—নিরাপত্তা চুক্তি একবার স্বাক্ষরিত হলে তার রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হয়।
বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থে বহুমুখী ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়, তবে প্রয়োজন—
• জনআলোচনা
• স্বচ্ছ কৌশলগত ব্যাখ্যা
• এবং স্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা নীতি
কারণ পররাষ্ট্রনীতি কখনো শুধু কূটনীতিকদের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশ আজ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আগামী এক দশকের কৌশলগত মানচিত্র নির্ধারণ করবে।
এখন প্রশ্ন—বাংলাদেশ কি হেজেমনিক বলয়ের ভেতরে প্রবেশ করবে, নাকি ভারসাম্যপূর্ণ বহুমেরু বাস্তবতায় নিজের পথ নিজেই নির্ধারণ করবে?
নয়া উপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী বাস্তবতা:
হেজেমনিক শক্তি সবসময় বন্ধুত্বের ভাষায় প্রভাব বিস্তার করে। যদিও কূটনৈতিক পরিসরে সবকিছু সৌজন্য এবং সহযোগিতার আড়ালে ঘটে, বাস্তবে এর লক্ষ্য থাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ বিস্তার। নিরাপত্তা চুক্তি একবার স্বাক্ষরিত হলে, তা শুধুমাত্র সামরিক তথ্য বা লজিস্টিক সুবিধা দেয় না—বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্বাধীনতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সীমিত করে। ইতিহাস প্রমাণ করে, একবার হেজেমনিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলে, সেই প্রভাব রদ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থে বহুমুখী ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়, তবে প্রয়োজন:
1. জনআলোচনা: জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত শুধু রাষ্ট্রনেতা বা কূটনীতিকদের হাতে রেখে চলা সম্ভব নয়। জনগণকে স্বচ্ছ তথ্য ও বিশ্লেষণ সরবরাহ করে জনমতের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। জনআলোচনা ছাড়া এমন চুক্তি সামাজিক ও রাজনৈতিক সহমতের অভাবে দেশের স্বার্থকে ঝুঁকিতে ফেলে।
2. স্বচ্ছ কৌশলগত ব্যাখ্যা: প্রতিটি চুক্তির প্রযুক্তিগত, কৌশলগত এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিপ্রেক্ষিত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। GSOMIA বা ACSA-র মতো চুক্তি যদি একপক্ষীয় সুবিধার দিকে ধাবিত হয়, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংকট তৈরি করতে পারে।
3. স্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা নীতি: বাংলাদেশকে বহুমুখী নিরাপত্তা নীতির অধীনে স্থাপন করতে হবে। কোন পরিস্থিতিতে কোন চুক্তি স্বাক্ষরযোগ্য, কোন ক্ষেত্রে সীমা থাকবে—এই নীতি পূর্বনির্ধারিত ও স্পষ্ট থাকতে হবে।
বাস্তবতা হলো—যেহেতু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের প্রেক্ষিত হয়নি। তাই বর্তমান ভূরাজনৈতিক কাঠামোতে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে স্থাপন করতে পারছে না। বরং দেশটি একটি নয়াউপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্রের ছায়া সমন্বিত ভূরাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে প্রবিষ্ট, যেখানে হেজেমনিক শক্তি (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, চীন, রাশিয়া) রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সামরিক সহায়তার মাধ্যমে দেশের নীতি ও নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখতে সক্ষম।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকে সবসময় এক সূক্ষ্ম সীমরেখায় চলতে হয়—একদিকে বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রক্ষা করা।
এখন প্রশ্ন এই যে—বাংলাদেশ কি হেজেমনিক বলয়ের ভেতরে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট শক্তির প্রভাবের আওতায় নিজেকে আবদ্ধ করবে, নাকি বহুমেরু, ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করে স্বাধীনভাবে নিজস্ব ভূরাজনৈতিক পথ তৈরি করবে?
উত্তরটি নির্ভর করবে দেশের রাজনৈতিক কৌশলগত দৃষ্টি, জনমতের অংশগ্রহণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নীতি কতটা স্বচ্ছ ও সুনির্ধারিতভাবে প্রণীত হয় তার ওপর। যদি এগুলো না হয়, তবে আগামী এক দশক বাংলাদেশ হেজেমনিক চাপের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে থাকবে এবং নিরাপত্তার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিণত হবে। #friends #Followers #FriendOfFriends #highlightsシ゚
মো. মামুন হাসান:
ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি শুধু আমাদের নদী ও সাগরের সম্পদই নয়, বরং দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়ি ...
ইমদাদ ইসলাম:
বিষাক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছে দেশের মানুষ। প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমেই প্রতিদিনই দেশের বায়ু মান গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।গত ৪ মার্চ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানী ঢা ...
মানিক লাল ঘোষ: ইতিহাসের পাতায় কোনো কোনো দিন আসে যা কেবল একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির ভাগ্যবদল ও আত্মপরিচয়ের চূড়ান্ত দলিল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ছিল তেমনই এক মাহেন্দ্রক্ষণ। সেদি ...
আতিকুল ইসলাম টিটু:
বাংলাদেশকে নয়া উপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বোঝার জন্য কেবল রাষ্ট্র গঠনের পরবর্তী সময় নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তর শ্রেণি সংগ্রাম এবং সাম্রাজ্যবাদ ...
সব মন্তব্য
No Comments