জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তীতে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি
মানিক লাল ঘোষ:
বাঙালির চেতনা ও মননে কবি নজরুল এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো। তাঁরা দুজনেই ছিলেন আপাদমস্তক স্বাধীনতাকামী, অসাম্প্রদায়িক এবং শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন। একজন সাহিত্যে বিদ্রোহ এনেছিলেন, অন্যজন রাজনীতিতে; এজন্যই নজরুলকে বলা হয় ‘পোয়েট অব লিটারেচার’ আর বঙ্গবন্ধুকে বলা হয় ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’। প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন কবি নজরুল। কবির ‘বাঙালির জয় হোক’ লেখার চেতনাকেই বঙ্গবন্ধু তাঁর কালজয়ী স্লোগানের মাধ্যমে পূর্ণতা দিয়েছিলেন।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধুর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আমন্ত্রণে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ধানমন্ডিতে কবির থাকার জন্য একটি সুন্দর রাষ্ট্রীয় বাড়ির ব্যবস্থা করেন বঙ্গবন্ধু এবং নিজে গিয়ে কবিকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে পরম শ্রদ্ধায় আলিঙ্গন করেন। নজরুলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রমাণস্বরূপ বঙ্গবন্ধু তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই নজরুলের 'চল চল চল' গানটিকে বাংলাদেশের রণসংগীত হিসেবে মর্যাদা দেন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভাষায়—বঙ্গবন্ধু ও নজরুল মানসিকতার দিক থেকে সমান্তরাল অবস্থানে ছিলেন। তাঁদের চিন্তা, বক্তব্য ও জীবনদর্শনে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নজরুল যেখানে গেয়েছিলেন, ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’, বঙ্গবন্ধুও ঠিক তেমনি বলেছিলেন, ‘বাঙালি-অবাঙালি, হিন্দু-মুসলমান সবাই আমাদের ভাই’। ১৯৪১ সালে নজরুল বলেছিলেন, ‘আমি কবি হতে আসিনি, আমি নেতা হতে আসিনি’, আর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই’। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় নজরুল যেমন উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুও তেমনি মুক্তির লক্ষ্যে ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার সংগ্রামের।
এক অদ্ভুত নিয়তি এই দুই মহান পুরুষকে যেন এক সুতোয় বেঁধেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, আর এর ঠিক এক বছর পর ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসেই কবি নজরুল শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবির নাতনি খিলখিল কাজীর ভাষায়—একজন ছিলেন মহাকবি, অন্যজন মহানেতা। এই দুই রূপকার আজীবন বাঙালির প্রাণে শোষণের বিরুদ্ধে এবং সাম্যের পক্ষে এক অবিরাম প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
১৮৯৯ সালের (১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) মে মাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। এই মহান কবির শুভ জন্মজয়ন্তীতে আমাদের দীপ্ত অঙ্গীকার হোক—নজরুল ও বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও শোষিত মানুষের মুক্তির সেই অভিন্ন স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া। কবির স্মৃতির প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
-লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি।
বর্ষার নদী কখনো কেবল পানি বহন করে না; সে বহন করে পলি, পোনা, প্রাণ, স্মৃতি এবং মানুষের জীবিকার দীর্ঘ ইতিহাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও তাদের শাখা-উপশাখা থেকে বড় আকারের পাঙাশ ধরা পড়ার ...
মো: মামুন হাসান:বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় সমুদ্র আজ এক নতুন সম্ভাবনার নাম। দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বঙ্গোপসাগর। প্রায় ৭১০ কিলোমিট ...
এ এইচ এম মাসুম বিল্লাহ:বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু দুই বছরের কঠোর অধ্যবসায়ের পরিণতিই নয়, উচ্চশিক্ষার পথে ...
রফিকুল ইসলাম সুজন:৫ থেকে ১০ মিনিট খেলেই জিতে যায়, ব্যাটারা খুব চালাক। কেউ গেম ওভার করে ফেলে চোখের পলকে, কেউ আবার লেভেল পার হয় মোবাইল টিপেই।অথচ ফুটবল? ১২০ মিনিট দৌড়াও, ঘাম ঝরাও, তারপরও গোলশূন্য ড্র!ক্র ...
সব মন্তব্য
No Comments