২০ বছরে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: বিদ্রোহী চেতনায় গড়া এক উচ্চশিক্ষা অভিযাত্রা

প্রকাশ : 02 Jun 2025
২০ বছরে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: বিদ্রোহী চেতনায় গড়া এক উচ্চশিক্ষা অভিযাত্রা

শরীফুল ইসলাম,জাককানইবি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা, মানবতা ও সাম্যের আদর্শকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালে পদার্পণ করল তার প্রতিষ্ঠার ২০তম বছরে। শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, গবেষণা ও উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।


২০০৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার নজরুল-স্মৃতিবিজড়িত ভূমিতে জাতীয় কবির নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর এক বছর পর, ২০০৭ সালের ৩ জুন অনুষ্ঠিত হয় প্রথম একাডেমিক ক্লাস। সেই দিনটিকেই 'বিশ্ববিদ্যালয় দিবস' হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং প্রতি বছর এ দিনটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়ে আসছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ২৫টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী, শতাধিক শিক্ষক এবং কর্মীবাহিনী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক প্রগতিশীল ও সৃজনশীল শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলেছে। নজরুলের ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছেন সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা জার্নাল, আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন, গবেষণা প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অনুদান প্রাপ্তি এবং নজরুল গবেষণায় বিশেষ অবদান ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বাড়িয়েছে। রয়েছে নজরুল গবেষণা কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ কর্নার এবং চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন চিত্রকর্ম ও প্রদর্শনী।


নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার নাম জাতীয় কবির নামে। ফলে নজরুল-চেতনা এখানকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। নিয়মিত আবৃত্তি, নজরুল সংগীত, নাটক, চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পরিবেশন করেন নজরুলের জীবন ও দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নাটক ও গানের অনুষ্ঠান।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবার বিশেষ আয়োজনে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা, নজরুল চেতনা ভিত্তিক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নজরুল সংগীত পরিবেশনা, নাট্য প্রদর্শনী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে — গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, নতুন অনুষদ ও বিভাগ খোলা, ক্যাম্পাস ডিজিটালাইজেশন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার প্রসার।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছরের অভিযাত্রা শুধু সময়ের গতি নয়, এটি এক আদর্শের প্রতিষ্ঠা। বিদ্রোহ, সাম্য, ভালোবাসা ও মানবতার যে বাণী নজরুল দিয়ে গেছেন, তা নিয়েই এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে চলেছে এক প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সৃজনশীল উচ্চশিক্ষা সমাজ গঠনের লক্ষ্যে।

সম্পর্কিত খবর

;