ফরিদপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন।

প্রকাশ : 20 Feb 2026
ফরিদপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন।

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুর শহরের থানা মোড় এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে জাতীয় পতাকা ও যুবলীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।এই আয়োজন রাজনৈতিক মহলে নতুনভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মী হঠাৎ কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি যুবলীগের পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, জেলা যুবলীগের সদস্য হিমেল মাহাফুজ, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, সাবেক সহ-সভাপতি কাওসার আকন্দ, যুবলীগ নেতা দেবাশীষ নয়ন এবং আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, পতাকা উত্তোলনের সময় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসপূর্ণ মনোভাব দেখান, দলীয় স্লোগান দেন এবং সংগঠনের কর্মকাণ্ড জোরদারের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কর্মসূচির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জেলা জুড়ে তা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া মিশ্রভাবে দেখা গেছে। থানা মোড় এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “রাজনীতি অবশ্যই চলবে, তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।” অন্যদিকে, এক তরুণ পথচারী মন্তব্য করেন, “সবারই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু তা অবশ্যই আইন ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে হওয়া উচিত।”


উক্ত বিষয় সম্বন্ধে উল্লেখ না করলেও উক্ত ঘটনার পরে শুক্রবার দুপুরের দিকে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কিবরিয়া স্বপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফেসবুক বার্তা লিখেন। যেখানে তিনি লিখেন,''ফরিদপুরের প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারনেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটা গনতান্ত্রিক সরকারের অগ্রগতি ব্যাহত করতে বিশেষ মহল সক্রিয় হচ্ছে। সকল গনতান্ত্রিক শক্তি কে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি।"


স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কোনো বিশৃঙ্খলা বা আইনভঙ্গ ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যালয়ে এই ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এটি কেবল একটি পতাকা উত্তোলনের ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত খবর

;