শামা ওবায়েদের অভিযোগ: ফরিদপুর-২ আসনে রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার চেষ্টা।

প্রকাশ : 11 Feb 2026
শামা ওবায়েদের অভিযোগ: ফরিদপুর-২ আসনে রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার চেষ্টা।

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু অভিযোগ করেছেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর সমর্থকরা রাতের অন্ধকারে ভোটারদের কাছে অর্থ বিতরণের চেষ্টা করেছেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা এখন সাধারণভাবে স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও গত কয়েকদিনে যে ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি, তা সংবাদ মাধ্যমে জানানো প্রয়োজন।”


তিনি আরও জানান, “গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে চরযোশর্দী ইউনিয়নের আলগাদিয়া ও সালথার রামকান্তুপুর, বাহিরদিয়া গ্রামসহ কয়েকটি এলাকায় জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। আমাদের কর্মীরা বাধা দিলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি কর্মীরা আমাকে অবহিত করেছেন।”


শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, “আমরা সকল প্রার্থীকে সম্মান করি এবং সকলের প্রচারণার অধিকার আছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার চেষ্টা নিন্দনীয়। এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কলুষিত করছে। আমরা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।”


শামা ওবায়েদ আরও অভিযোগ করেন, “গত ৩-৪ দিন ধরে জামায়াতের লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দিচ্ছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। সেনাবাহিনী তদন্ত করে দেখেছে এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। ধানের শীষের শক্তিশালী এলাকায় নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে, যা আমাদের হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে।”


তিনি সব প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ১৮ বছর ধরে এই ভোটাধিকার অর্জনের জন্য লড়াই করেছি। সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সেটি নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে।”


অন্যদিকে, ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ সঠিক নয়। এটি মিথ্যা। আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা নিজস্ব তহবিল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং নির্বাচনের পরিবেশও ভালো আছে।”

সম্পর্কিত খবর

;