মঙ্গলে অক্সিজেন বানাল বিজ্ঞানীরা, সফল ‘মক্সি’

প্রকাশ : 15 Jun 2026
মঙ্গলে অক্সিজেন বানাল বিজ্ঞানীরা, সফল ‘মক্সি’

ডেস্ক রিপোর্ট: পৃথিবীর বাইরে প্রথমবারের মতো মঙ্গলগ্রহের বুকে অক্সিজেন তৈরি করে ইতিহাস গড়লেন বিজ্ঞানীরা। নাসার মার্স রোভার পারসিভারেন্সের সঙ্গে পাঠানো ‘মক্সি’ যন্ত্রের মাধ্যমে মঙ্গলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড ভেঙে অক্সিজেন উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।


২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করে পারসিভারেন্স। এর সামনের দিকে ডান পাশে ১৭.১ কিলোগ্রাম ভরের ‘দ্য মার্স অক্সিজেন ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন এক্সপেরিমেন্ট’ বা মক্সি যন্ত্রটি লাগানো ছিল। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের ৯৫ শতাংশই কার্বন ডাই-অক্সাইড। সেই গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে অক্সিজেন বানানোই ছিল মক্সির মূল উদ্দেশ্য। ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল প্রথমবারের মতো অক্সিজেন উৎপাদনের ঘোষণা দেয় নাসা। ফলে পৃথিবীর বাইরে প্রথম কোনো গ্রহে অক্সিজেন উৎপাদনের মাইলফলক অর্জন করে মানুষ। 


শুরুতে মক্সি ঘণ্টায় ৬ গ্রাম করে অক্সিজেন তৈরি করে। মঙ্গলের দিন-রাত, গ্রীষ্ম-শীত—সব ঋতুতেই যন্ত্রটি সফলভাবে কাজ করেছে। পরে নাসা যন্ত্রটির সক্ষমতা বাড়ায়। ২০২৩ সালে চূড়ান্ত মিশনের সময় মক্সি থেকে ঘণ্টায় ১২ গ্রাম করে অক্সিজেন উৎপাদন হয়, যা বিজ্ঞানীদের নির্ধারিত লক্ষ্যের দ্বিগুণ। 


কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে অক্সিজেন আলাদা করার প্রযুক্তি পৃথিবীতে নতুন না হলেও মঙ্গলের মতো বৈরী পরিবেশে তা সম্ভব কি না, সেটাই দেখতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। মক্সির এই সাফল্য ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। নভোচারীদের শ্বাস নেওয়ার জন্য এবং রকেটের জ্বালানি হিসেবে অক্সিজেন দরকার। পৃথিবী থেকে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন বহন করা অসম্ভব। মঙ্গলেই অক্সিজেন তৈরি করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে ঘাঁটি গড়া ও পৃথিবীতে ফেরার খরচ অনেক কমে যাবে। 


মক্সির এই পরীক্ষা প্রমাণ করল, স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে মঙ্গলে টিকে থাকার প্রযুক্তি এখন আর কল্পনা নয়। একদিন হয়তো মঙ্গলের বুকে গড়ে উঠবে মানব বসতি—সেই পথেই প্রথম ধাপ এই অক্সিজেন উৎপাদন।


সম্পর্কিত খবর

;