জাপানে এক রাতে দুই দফা ভূমিকম্প, মধ্যাঞ্চলে আহত ২৪ জনের বেশি

প্রকাশ : 08 Nov 2026
জাপানে এক রাতে দুই দফা ভূমিকম্প, মধ্যাঞ্চলে আহত ২৪ জনের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানে এক রাতের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। পরেরটি ছিল ৪ দশমিক ৩ মাত্রার। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ১টা ৪ মিনিটে পশ্চিম শিজুওকা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে। তবে এর ফলে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। 


ভূমিকম্পে বিভিন্ন দোকানের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং বিঘ্ন ঘটে ট্রেন চলাচলে। টয়োহাশি শহরে একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া টয়োটা শহরের একটি বড় বইয়ের দোকানে তাক থেকে বইপত্র পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের কারণে রোববার সকালে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিলম্ব ও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনও ছিল। টোকাইডো শিনকানসেন লাইনে শিজুওকা থেকে গিফু-হাশিমা স্টেশনের মধ্যে নিরাপত্তা পরীক্ষার পর ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। 


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আইচি প্রিফেকচারের এক জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে বেশির ভাগই সামান্য আহত হওয়ার ১৬টি খবর পেয়েছেন তারা। প্রতিবেশী শিজুওকা প্রিফেকচারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নব্বই বছরের বেশি বয়সী এক নারী কম্পনের সময় বিছানা থেকে পড়ে কাঁধে আঘাত পান। স্থানীয় পত্রিকা চুনাইচি শিমবুন ও তোকাই টেলিভিশন পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। 


ভূমিকম্পের কম্পন পশ্চিমে ওসাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে দ্বিতীয় তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে বসবাসকারী এক বিদেশিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পালানোর চেষ্টার সময় সিঁড়িতে পড়ে গিয়েও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কম্পন অনুভূত হয়েছে হামামাতসু শহর, কিয়োটো, নারা, ইয়ামানাশি ও গিফুসহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। তবে টোকিওতে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। 


পরে রোববার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে কুমামোতো অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। দ্বিতীয় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এদিকে আবহাওয়া সংস্থা আগামী দুই থেকে তিন দিন, বিশেষ করে আগামী এক সপ্তাহে শক্তিশালী আফটারশক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। ভূমিধস, পাথর পড়া এবং বৃষ্টির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছেন সংস্থার কর্মকর্তা আয়াতাকা এবিতা। 


জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এখনো গত জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত হন, বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০১১ সালে সমুদ্রতলে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে জাপানে। এতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। 


সম্পর্কিত খবর

;