শিল্পকলা একাডেমির যাত্রাপালা দেখতে হাজারো দর্শকের ঢল

প্রকাশ : 01 Nov 2024
শিল্পকলা একাডেমির যাত্রাপালা দেখতে হাজারো দর্শকের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির উৱসব-পার্বণের সাথে গণমানুষের সংস্কৃতি হিসেবে জড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা। যার দৃশ্যমান উপস্থিতি আবারো লক্ষ্য করা গেলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যাত্রা উৱসবের প্রথম দিনের আয়োজনে। হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে মুক্তমঞ্চ। উদ্বোধনী আয়োজনে পরিবারসহ যাত্রাপালা উপভোগ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।


বিপ্লব উত্তর সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে “যাত্রা উৎসব ২০২৪”। আজ ১ নভেম্বর ২০২৪ সন্ধ্যা ৬ টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চে শুরু হলো ৭ দিনব্যাপী উৱসবের প্রথম দিনের আয়োজন।


অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বের শুরুতে বক্তব্য প্রদান করেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক ফয়েজ জহির। উপস্থিত বিপুল দর্শককে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “সকলের সহযোগিতায় এই উৱসব আমরা সারাদেশে যেন ছড়িয়ে দিতে পারি। যাত্রাশিল্পসহ শিল্পকলার সকল মাধ্যমকে প্রবাহিতভাবে বেগবান করার সময় এসেছে।”


 প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন ছাত্র জনতার গণঅভ্যত্থানে অংশগ্রহণকারী ইসরাফিল মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট যাত্রা শিল্পী অনিমা দে। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন যাত্রাশিল্পী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মহাপরিচালক, নাট্য নির্দেশক ও শিক্ষক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। সভাপতির বক্তব্যে শুরুতেই জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মহাপরিচালক বলেন- ‍“বিদ্যুত চমকের মত দ্রুতবেগে ঘটে যাওয়া এক নির্ভয় অভ্যুত্থানের অগ্নিগর্ভ ছিড়েঁ জন্ম নিয়েছে নতুন এই বাংলাদেশ।”


সংস্কৃতি খাতে বাজেট বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, “জাতীয় বাজেট যেখানে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা সেখানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ কেবল ৭শ ৭৮ কোটি টাকা”। সংস্কৃতি খাতে এতো স্বল্প বাজেট নিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


তিনি আরো বলেন “শিল্পকলা একাডেমি মনে করে, শিল্পচর্চা জনজীবনের কেন্দ্রে অবস্থিত। শিল্পচর্চার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এবং গ্রামীণ জনসাধারণের বিনোদনের ঐতিহ্য বিবেচনায় আমরা এই যাত্রাপালার আয়োজন করেছি। আমরা চাই, আপনারা সবাই যাত্রা শিল্পীদের পাশে থাকুন।”


আলোচনা পর্বের পর শুর হয় প্রথম দিনের যাত্রাপালা “নিহত গোলাপ” এর পরিবেশনা। যাত্রাদল সুরুভী অপেরা’র পালায় নির্দেশনা দিয়েছেন কবির খান, পালাকার ছিলেন আগন্তক।


যাত্রাপালা ‘নিহত গোলাপ’ এর কাহিনী সংক্ষেপ


নিহত গোলাপ যাত্রাপালায় মাধবপুর জমিদারের চক্রান্তের এক অতি বাস্তব কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। করুণ কাহিনী নির্ভর সেই চক্রান্তের বলি হয়েছিল রাধারানী কলেজের মেধাবী ছাত্র গোকুল। জমিদারের আত্মীয়কে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করানোর কারণে গোকুলের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। গোকুলকে কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয় ‘নিচু জাতের’ ছেলে বলে। পরবর্ীতে সে সমাজ বিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে ভাগ্যের ফেরে তার প্রেমিকা যৌন পল্লিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। কোন একদিন গোকুল ছিনতায়ের অপরাধে ঐ পল্লীতে আশ্রয় নেয়। অবশেষে একদিন সে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিচারে তার সাজা হয়।


পরবর্তী যাত্রাপালা:


২-১১- ২০২৪, শনিবার, দলের নাম-নিউ শামীম নাট্য সংস্থা, পালাকার-প্রসাদ কৃষ্ণ ভট্টচার্য, পালার নাম- আনার কলি; পালা নির্দেশক- শামীম খন্দকার;


৩-১১- ২০২৪, রবিবার, দলের নাম-বঙ্গবাণী অপেরা, পালাকার- রঞ্জন দেবনাথ, পালার নাম- মেঘে ঢাকা তারা; পালা নির্দেশক- মানস কুমার;


৪-১১- ২০২৪, সোমবার, দলের নাম- নর-নারায়ণ অপেরা, পালাকার-দেবন্দ্রনাথ, পালার নাম- লালন ফকির; পালা নির্দেশক- ব্রোজেন কুমার বিশ্বাস;


৫-১১- ২০২৪, মঙ্গলবার, দলের নাম-বন্ধু অপেরা, পালাকার- শামসুল হক, পালার নাম- আপন দুলাল; পালা নির্দেশক- মনির হোসেন;


৬-১১- ২০২৪, বুধবার, দলের নাম-শারমিন অপেরা, পালাকার-পুর্নেন্দু রায়, পালার নাম- ফুলন দেবী; পালা নির্দেশক- শেখ রফিকুল;


৭-১১-২০২৪, বৃহস্পতিবার, দলের নাম-যাত্রাবন্ধু অপেরা, পালাকার- শ্রী শচীননাথ সেন, পালার নাম- নবাব সিরাজউদ্দৌলা পালা নির্দেশক- আবুল হাশেম।


“যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে উৎসব চলবে ৭ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত। এই উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিবন্ধিত ০৭টি যাত্রা দল প্রতিদিন ১টি করে ‘ঐতিহাসিক ও সামাজিক’ ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত যাত্রাপালা পরিবেশন করবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬.০০টা থেকে রাত ৯.০০টা পর্যন্ত পালা পরিবেশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

;