হাসপাতাল ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিন্দা, দ্রুত বিচার দাবি

প্রকাশ : 27 Sep 2026
হাসপাতাল ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিন্দা, দ্রুত বিচার দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া, নয়া পল্টনের ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর এবং ইসিবি চত্বরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।


ঢাকা- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ এ নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে একজন মহিলা এমপির মদদপুষ্ট বিএনপির সন্ত্রাসীরা। একই সঙ্গে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল নিতে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক দখলবাজি হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের বরাতে চিকিৎসা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল নেওয়ার সাথে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির এক সংসদ সদস্য জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি মূল হোতাসহ সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ, অবকাঠামো সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।


বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরে নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জুলাইযোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে বিএনপির সন্ত্রাসীরা রামদা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর ও মূল্যবান সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এছাড়া গতকাল বিকেলে রাজধানীর নয়া পল্টনের ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধরের ঘটনায় কথিত স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতা লিয়ন ও ফরহাদের নেতৃত্বে হাসপাতালের গ্লাস, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে ভেঙে পড়েছে এবং বিএনপি কর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।


একই দিনে পৃথক বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল রাড্ডা ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। বিবৃতি প্রেরক ডিজিটাল ও গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক তাহসিন মাহমুদ জানান, নেতৃবৃন্দ বলেন, মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা চলাকালীন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকার পরেও কেন কাউকে আটক করা হলো না, তা নিয়ে পুলিশকে জবাবদিহি করতে হবে। পরবর্তীতে কেবল কিছু ভাসমান ব্যক্তিদের আটক করা হলেও এখনও পর্যন্ত ঘটনার নির্দেশদাতা এবং পুলিশের গাফিলতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়নি। রাজধানীতে এভাবে সংঘবদ্ধ আক্রমণের ঘটনা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তারা পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত ও পুলিশ সংস্কারের কার্যকরী উদ্যোগের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।


অপরদিকে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজে শতাধিক মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ, সিসিটিভি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নিছক বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিবৃতিতে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধের বিচার, ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহনের উৎস শনাক্ত এবং লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারের দাবি জানানো হয়। এবি পার্টির সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে বাংলাদেশে অস্ত্রের জোরে চাঁদা আদায় ও দখল বরদাশত করা হবে না।


সম্পর্কিত খবর

;