ঝিনাইদহে ভুয়া সংগঠনকে অনুদান, তদন্ত শেষে চেক দেওয়ার দাবি

প্রকাশ : 23 Jun 2026
ঝিনাইদহে ভুয়া সংগঠনকে  অনুদান, তদন্ত শেষে চেক দেওয়ার দাবি

সুজন বিপ্লব, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে রাষ্ট্রীয় অনুদানের তালিকায় অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব সাংস্কৃতিক সংগঠন ঠাঁই পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিষ্ক্রিয় সংগঠনগুলোকে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে অনুদানের মঞ্জুরি দেওয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের ফলে অনেক ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন বঞ্চিত হয়েছে বলে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা দাবি করেছেন।


অনুদানপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংকুর নাট্য একাডেমী, সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও পাঠাগার, ঝিনেদা থিয়েটার, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা ঝিনাইদহ আঞ্চলিক শাখা, বিহঙ্গ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র, ভোর হলো, জাগরণ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, স্বরলিপি সংগীত চর্চা কেন্দ্র, দীপায়ন সাংস্কৃতিক একাডেমি, বিপ্লবী বাঘা যতীন থিয়েটার নামের সংগঠনগুলো ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় জাতীয় দিবসভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বছরে হাতেগোনা স্বল্পসংখ্যক আয়োজন করে থাকে। জেলার সীমান্তবর্তী কোটচাঁদপুরে মিতালী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ কোনোরকমে বছরে একটি-দুটি কর্মসূচি পালন করে। সীমান্তঘেঁষা মহেশপুর উপজেলায় নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও নিয়মিতভাবে বনলতা নাট্য সংসদ তার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রেখেছে।


শৈলকুপা উপজেলায় কুমার নাট্যদল নামে দৃশ্যত দীর্ঘদিন ধরে কোনো কর্মসূচি নেই। শৈলকুপার কবিরপুরে বৈশাখী শিল্পী গোষ্ঠী নামে কোনো সংগঠন নেই, উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গাড়াগঞ্জ থিয়েটার বলে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব নামসর্বস্ব ও বিলুপ্ত সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তদবিরের মাধ্যমে অনুদান হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে।


ঝিনাইদহ জেলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে অনুদান মঞ্জুরি দিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিল্পকলা শাখার সচিবালয়, ঢাকা। গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে প্রেরিত প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর ৪৩.০০.০০০০.১১৬.০২.০০০৪.২৬.২৫ অনুযায়ী প্রাপক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সিজিএ ভবন, সেগুনবাগিচা, ঢাকা। জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝিনাইদহ জেলার ২৬টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে মোট ১৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা মঞ্জুরি প্রদান করা হয়েছে। মঞ্জুরিকৃত অর্থ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কোড-১৩৪, অর্থনৈতিক কোড-১৩৪০১০১১১৯১৩৪-৩৮২১১১৫ “সাংস্কৃতিক মঞ্জুরি (সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান)” খাত থেকে মেটানো হবে। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ঝিনাইদহ বরাবর পেমেন্ট অথরিটি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।


ঝিনাইদহের শৈলকুপার সংগীতশিল্পী ও শৈলবালা সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি খন্দকার ফারুক হোসেন বলেন, “টাকার ছড়াছড়ি করা অথবা সাংস্কৃতিক অনুদানের নামে কারও উদরপূর্তি করা হচ্ছে। অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনের মধ্যে কয়েক যুগ আগেই বিলীন হয়ে গেছে এমন সংগঠনের নাম আছে। অথচ তাদের নামেই অর্থ বরাদ্দ। গতবারও এমন একটি আজগুবি সংগঠন ‘নৃত্যকলা’র নামে আশি হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, যা নিয়ে দরকষাকষি-হট্টগোল হয়ে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই অর্থ তো জনগণের অর্থ। এভাবে অর্থ তছরুপ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ঝিনাইদহ কোন তথ্য অনুযায়ী এবং কিসের বিনিময়ে বা কার প্রভাবে এই অর্থের তছরুপ করার সুযোগ করে দিয়েছে?”


অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনুদানপ্রাপ্ত ২৬টি সংগঠনের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। এসব নামসর্বস্ব সংগঠনের কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সারা বছরে একবারও চোখে পড়ে না। সরকারিভাবে ডাক পড়লে কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন মঞ্চে পারফর্ম করতে আসে। সংগঠনগুলো বছরে একটি-দুটি কর্মসূচি পালন করে থাকে। নিজস্ব উদ্যোগে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করার ব্যাপারে তৎপর নয়। অনুদান পাওয়া সংগঠনগুলোকে সঠিকভাবে টাকা ব্যবহার ও ভাউচার সংরক্ষণসহ অডিট ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। একই সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে অনুদানের চেক হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ


সম্পর্কিত খবর

;