শোকজের পরও স্বপদে বহাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ

প্রকাশ : 22 Jun 2026
শোকজের পরও স্বপদে বহাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জের বিরুদ্ধে শোকজের পরও স্বপদে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকা সত্ত্বেও পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়মূলক পরীক্ষা করানো, দায়িত্বকালীন সময়ে অনুপস্থিত থাকা এবং রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ল্যাব ইনচার্জ ও এক পরিচ্ছন্নকর্মীকে শোকজ করা হয়। পরে ল্যাব ইনচার্জকে স্বপদে বহাল রেখে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শোয়েবকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ রেজাউল করিম এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শোয়েবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ল্যাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে ল্যাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনের সময় নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও ছিল ল্যাব ইনচার্জ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।


অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ল্যাব কর্মচারীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে রোগ নির্ণয়ের সঠিকতা নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


শোকজের বিষয়টি গোপনীয় থাকার পরও দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্যাথলজির বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রচার হলে হাসপাতাল প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শোয়েবকে নবীনগরে বদলি করা হলেও প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ রেজাউল করিম আগের স্বপদেই বহাল রয়েছেন।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এক প্রভাবশালী চিকিৎসকের নিকটাত্মীয় হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ রয়েছে। ল্যাবের অভিজ্ঞতা ও চাকরিকাল কম হওয়া সত্ত্বেও তাকে ল্যাব ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী ও স্বজন জানান, অনেক সময় ল্যাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। এতে নমুনা জমা দেওয়া, রিপোর্ট সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে গিয়ে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।


শোকজের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, ল্যাব ইনচার্জ রেজাউল করিমকে তার দায়িত্বে অবহেলার কারণে শোকজ করা হয়েছিল।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, জনবল সংকট রয়েছে। সবাইকে বদলি কিংবা শাস্তি দিলে কাজ করানোর মানুষ পাওয়া যাবে না।


সম্পর্কিত খবর

;