ইয়েমেনে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হুথিদের হামলায় নিহত ৫৩, আহত দুই শতাধিক

প্রকাশ : 20 Oct 2026
ইয়েমেনে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হুথিদের হামলায় নিহত ৫৩, আহত দুই শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে একটি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে শাবওয়া প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে এই হামলা চালায়। নিহত ৫৩ এবং আহত ২০০ জনের তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও বিজনেস টাইমস নিশ্চিত করেছে। 


আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি দক্ষিণ ইয়েমেনের আল-আলাম সামরিক শিবিরে চালানো হয়। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সোমবার শাবওয়া গভর্নরেটে প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালীন সময়ে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, শাবওয়া গভর্নরেট ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে এই হামলা হয়। 


শাবওয়া কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ ধরনের ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে জরুরি সামরিক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি শাবওয়া প্রদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে শাবওয়া প্রদেশে আহত মানুষ এবং রক্তাক্ত মরদেহ মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিজনেস টাইমস।


এদিকে হামলার বিষয়ে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে হুথি পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থা একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল-আলাম ঘাঁটিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে ভিয়েতনাম ভিএন।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, জ্বালানি সমৃদ্ধ শাবওয়া প্রদেশে এই হামলাকে ইরান-সমর্থিত হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মারিব গভর্নরেটে সরকারি বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ব্যাহত করতেই হুথিরা এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা। 


আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি দেশটিতে গভীর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;