জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে ইসি

প্রকাশ : 01 Oct 2026
জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে ইসি

স্টফ রিপোর্টার: আগামী জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।


সিনিয়র সচিব জানান, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে এসএসসি পরীক্ষা, আসন্ন রমজান, বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসের মতো স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতাগুলোকে সার্বিক বিবেচনায় নিয়ে একটি সুসংহত ও বাস্তবসম্মত সমাধানে আসবে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক স্থানীয় পরিবেশ মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করা হবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তিনি আরও জানান, জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৬ জুনের মধ্যে দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, তবে কোন নির্বাচন কখন হবে তার চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশনই।


বৈঠক প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, ইউএনডিপির ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। মূলত অপতথ্য, ভুল তথ্য ছড়ানো (ডিসইনফরমেশন) এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (হেইট স্পিচ) প্রতিরোধের কৌশল রপ্ত করা, বিশেষ করে এআই-এর অপব্যবহার ও ফেক ইনফরমেশন মোকাবিলার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এটি একক কোনো নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়, বরং একটি স্বাধীন ও ধারাবাহিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। এই প্রকল্পে ইউএনডিপি মোট ১৮ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে এবং নির্বাচনের ১৬টি কম্পোনেন্টে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবনাটি বর্তমানে অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের কনটেন্ট ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।


অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সময়সূচিসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা প্রয়োজন সাপেক্ষে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার যে উচ্চ মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, কমিশন তা ধরে রাখা ও আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।


সম্পর্কিত খবর

;