চীনে কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত ৯০

প্রকাশ : 23 May 2026
চীনে কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত ৯০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের উত্তরাঞ্চলের শানশি প্রদেশের কিনইউয়ান কাউন্টির লিউশেনইউ কয়লাখনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একে গত দেড় দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করেছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে বিস্ফোরণে ১০৮ জন মারা গিয়েছিলেন। 


শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া প্রথমে ৮ জনের মৃত্যুর খবর দিলেও শনিবার সকালে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ৯০ জনে পৌঁছায়। এখনও ৯ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১২৩ জনের বেশি শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, খনির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইড সেন্সরের অ্যালার্ম বেজে ওঠার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও বিষাক্ত গ্যাস যা শ্রমিকদের অজান্তেই অচেতন করে ফেলতে পারে। জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিক ওয়াং ইয়ং বলেন, বিস্ফোরণের পর তিনি ধোঁয়া ও সালফারের গন্ধ পান। আশপাশের শ্রমিকদের শ্বাসরুদ্ধ হতে দেখে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে সহকর্মীদের ডেকে খনি থেকে বেরিয়ে আসেন। 


চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের চিকিৎসা, উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের খোঁজে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংও দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশ এবং কঠোর জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন। ভাইস প্রিমিয়ার ঝাং গুওকিংকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। 


লিউশেনইউ খনিটি শানশি টংঝো গ্রুপ লিউশেনইউ কোল ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনা করে, যা ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্ঘটনার পর কোম্পানির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে ৩৪৫ জনের বেশি জরুরি কর্মী অংশ নিচ্ছেন। তবে খনি কোম্পানির দেওয়া ভূগর্ভস্থ মানচিত্রের সঙ্গে প্রকৃত অবস্থার মিল না থাকায় এবং অনেক শ্রমিকের কাছে জিপিএস ট্র্যাকার না থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। 


শানশি প্রদেশ চীনের কয়লা উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল। ২০২৫ সালে এই প্রদেশ ১৩০ কোটি টন কয়লা উৎপাদন করেছে, যা চীনের মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ। চীন ২০০০ সালের পর থেকে কঠোর আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে খনি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনলেও লিউশেনইউয়ের ঘটনা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। 


প্রেসিডেন্ট শি সতর্ক করে বলেছেন, সব অঞ্চল ও বিভাগকে এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঝুঁকি শনাক্ত করে তা দূর করতে হবে। বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 


সম্পর্কিত খবর

;