ঝিনাইগাতীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর জমি দখলচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ : 26 Jun 2026
ঝিনাইগাতীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর জমি দখলচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আনিছ আহমেদ(শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের বাগেরভিটা গ্রামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. দুলাল মিয়ার পৈতৃক ও ওয়ারিশি সম্পত্তি এবং বড় ভাই নূরে আলমের ক্রয়কৃত জমি অবৈধভাবে দখলচেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।


শুক্রবার, ২৬ জুন সকাল ১১টায় উপজেলার পশ্চিম ধানশাইলে ভুক্তভোগীর চাচা আলহাজ্ব মকশের আলীর বসতবাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, কান্দুলী মৌজার ৮১৯ নম্বর খতিয়ানের ৩৩৪ নম্বর দাগে ৮ শতাংশ এবং ৩৩৫ নম্বর দাগে ১৩ শতাংশসহ মোট ২১ শতাংশ রেকর্ডভুক্ত জমির মালিক ছিলেন দাদা আবির শেখের পুত্র ময়সান শেখ ও চাচা মকশের আলী।


ময়সান শেখ জীবিত থাকাকালে ৩৩৪ নম্বর দাগের ৫ শতাংশ জমি প্রতিবেশী মৃত জহুরুল হকের স্ত্রী আয়েশা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন। ফলে ওই দাগে তার অবশিষ্ট থাকে ৩ শতাংশ এবং ৩৩৫ নম্বর দাগে থাকে আড়াই শতাংশ। দুই দাগে মোট সাড়ে ৫ শতাংশ জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিক হন ময়সান শেখের সন্তানরা।


অন্যদিকে প্রায় চার বছর আগে চাচা মকশের আলীর উত্তরাধিকারীরা তাদের প্রাপ্য সাড়ে ১০ শতাংশ জমির মধ্যে আড়াই শতাংশ বড় ভাই নূরে আলমের কাছে এবং অবশিষ্ট ৮ শতাংশ প্রতিবেশী আব্দুল আজিজের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী শামীম আজিজের কাছে সাব-কবলা দলিলে বিক্রি করেন।


তিনি অভিযোগ করেন, ৩৩৪ ও ৩৩৫ নম্বর দাগে তাদের ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বড় ভাই নূরে আলমের ক্রয়কৃত আড়াই শতাংশসহ মোট ৮ শতাংশ জমিতে আব্দুল আজিজ বা তার ছেলেদের কোনো বৈধ মালিকানা না থাকলেও তারা জোরপূর্বক ঘর ও রাস্তা নির্মাণ করে দখল করে রেখেছেন। জমি ফেরত চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকি এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া প্রবাসী শামীম আজিজ ঘর নির্মাণকালে বাধা দিতে গেলে তাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে উল্টো ৬ জনকে ডাকাতি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। ঘটনার দিন দুই ভাই ঢাকায় থাকলেও পরিকল্পিতভাবে তাদের অভিযুক্ত করা হয়।


এছাড়া, রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় শামীমের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ১২ জুন সকালে পাঁচ মাস বয়সী শিশুসহ স্ত্রী হাবিজাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মা ও শিশুকে প্রায় চার ঘণ্টা থানার একটি তালাবদ্ধ কক্ষে আটকে রেখে আদালতে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


ভুক্তভোগী পরিবার জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবরদখল হওয়ায় সরকারি ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুলাল মিয়া। ভূমিদস্যুদের প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকিতে বসতবাড়িতেও তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর

;