“গণজাগরনের যাত্রাপালা উৎসব’ ঢাকায় সমাপনী , জেলায় চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত

প্রকাশ : 07 Nov 2023
“গণজাগরনের যাত্রাপালা উৎসব’ ঢাকায় সমাপনী , জেলায় চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত

স্টাফ রিপোটার: অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যাত্রাশিল্পী সম্মাননা পেলেন মিলন কান্তি দে।

মঞ্চের চারপাশে উন্মুখ দর্শক। নীরব- নীশ্চুপ হয়ে মনোযোগী শ্রোতার মতো উপভোগ করছেন ইতিহাস নির্ভর চিত্রায়ন। মাঝে মাঝেই বেজে ওঠছে সেই গ্রামবাংলার চিরচেনা ক্লারিওনেট, করনেটের সুর। মঞ্চে প্রবেশ করছেন ইয়াহিয়া খান, জাতির পিতার বিরুদ্ধে চলছে ষড়যন্ত্র। কাহিনীর ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার দরাজ কন্ঠে ভেসে ওঠছে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে বাঙ্গালির হুংকার। কখনও বসছে কোট মার্শাল। জাতির পিতার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পশ্চিম পাকিস্তানীদের নানান ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মূর্ত হয়ে ওঠেছে ‘নি:সঙ্গ লড়াই’য়ে।

১৯৭১ সালের মার্চে জাতির পিতাকে বন্দী করে রাখা হয় লালপুর থানায়। তাঁর কারাবন্দী জীবনের নানান প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক ইতিহাস নির্ভর, যাত্রাপালা ‘নি:সঙ্গ লড়াই’ । ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের এই যাত্রাপালার নির্দেশনায় ছিলেন সাইদুর রহমান লিপন, পালাকার মাসুম রেজা এবং প্রযোজনা উপদেষ্টা জনাব লিয়াকত আলী লাকী। মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর ২০২৩ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে প্রদর্শিত হয়েছে যাত্রাপালা ‘নি:সঙ্গ লড়াই’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির রেপাটরি যাত্রাদল পরিবেশন করে এই পালা।

এরপর যাত্রাশিল্পে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরুপ যাত্রাশিল্পী মিলন দে, - কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক, সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকা অর্থমূল্যের চেক তুলে দেন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে একাডেমির সম্মানিত সচিব জনাব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ বলেন- “একজন যাত্রাশিল্পী হিসেবে মিলন কান্দি দে যাত্রা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে গেছেন, যাত্রা নট হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে এই ধারাকে সচল রেখেছেন, যাত্রাকে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন”।

সম্মাননা প্রাপ্ত যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে নিজের অনুভুতি ব্যক্ত করেন- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তিনি বলেন- “আমি শিল্পী খ্যাতি অর্জনের জন্য যাত্রাশিল্পে আসি নি, এই শিল্পের দুর্দশা দূর করতে কাজ করেছি। নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে যাত্রার দুর্দশা দূর করতে অনন্ত প্রাণ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সম্মানিত মহাপরিচালক”। শিল্প সংস্কৃতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা যেন অব্যাহত থাকে সেই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
যাত্রাপালাকে নগর জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী- সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেন- “যাত্রা শিল্পের সাথে জড়িয়ে থাকা এক অনবদ্য শিল্পীর নাম মিলন কান্তি দে”। তিনি বলেন- “যাত্রা শিল্পীকে সম্মান জানাতে আমাদের আইন, নীতিমালা নানাভাবে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে যা প্রণয়ণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা”।

“আমরা ২ শতাধিক যাত্রাদলকে নিবন্ধন করেছি। শিল্পীরা যেভাবে শিল্পকে দেখতে চায়, সেখান থেকেই আমাদের এই গনজাগরণের উৎসব। ঢাকায় এই যাত্রাপালা শেষ হচ্ছে কিন্তু জেলা পর্যায়ে চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত”। তিনি আরো বলেন- ‘দেশে দেশে সংঘাত চলছে, আমাদের দেশের কবি সাহিত্যিক শিল্পীরা এই সংঘাত চায় না, আমরা ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই শিল্পের মাধ্যমে”।

গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা যাত্রাপালা, যাত্রাশিল্পী ও দলগুলোকে উজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সারাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯ দিনব্যাপী গণজাগরণের যাত্রাপালা উৎসব। ৪২ টি জেলা ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকায় ০২-২০ নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত চলছে যাত্রাপালা উৎসব। ‘শিল্প সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার অভিলক্ষ্যে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় শিল্প নিয়ে পৌঁছে যাবো আমরা উন্নতির শিখরে’ এই প্রতিপাদ্যে ‘গণজাগরণের শিল্প আন্দোলন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী শিল্পযজ্ঞ পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এর অংশ হিসেবে গত ০২রা নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে যাত্রা উৎসব।

সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যাত্রা দলগুলোর সাথে সর্বসাধারণকে সম্পৃক্ত ও দলগুলোকে অনুপ্রাণিত করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশব্যাপী ১২০ টি যাত্রাদলের পরিবেশনায় ৪২টি জেলায় চলছে ‘গণজাগরণের যাত্রাপালা উৎসব ২০২৩’।

র্বতমানে যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। উৎসবের মাধ্যমে দলগুলোকে পৃষ্টপোষকতা দেয়ার পাশাপাশি ভিন্ন ধারার যাত্রা নির্মাণ ও পরিবেশনা অব্যাহত রেখেছে। দুটি রেপার্টরি যাত্রা নির্মাণ ছাড়াও ইশা খাঁ নামে বাংলাদেশে প্রথম ভিন্ন ধারার প্রত্ন যাত্রা নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। ২ শতাধিক যাত্রাদলকে নিবন্ধিত করে একাডেমি। ০৬-২০ নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত দেশের ৪২ টি জেলায় বিভিন্ন দলের পরিবেশনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় চলবে এই যাত্রাপালা উৎসব। যাত্রাপালা সকলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;