সংসদ সদস্যদের প্রতি যুক্তফ্রন্টের আহ্বান

সংবিধান সংস্কার একমাত্র সংসদেই হতে পারে

প্রকাশ : 16 Feb 2026
সংবিধান সংস্কার একমাত্র সংসদেই হতে পারে

দুইটি শপথ নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করে সংস্কার কার্যক্রম ব্যহত করবেন না


ডেস্ক রিপাের্ট: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পাার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আগামীকাল জাতীয় সংসদের সদ্য নির্বাচিত সদস্যদের শপথ ও নতুন মন্ত্রীসভার শপথ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংসদ সদস্যদের আরেকটি অতিরিক্ত শপথের খবরে উদ্বিগ্ন বোধ করছি। একটি অসাংবিধানিক আদেশের বলে অনুষ্ঠিত গণভোটে এ ধরণের শপথ, সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ইত্যাদি জায়েজ করার বিরুদ্ধে আমরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। আগামী সংসদে রাষ্ট্রপতির আদেশ গৃহীত হবার আগে এ ধরণের অতিরিক্ত শপথ বৈধ হবে না বলে অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মত। আমরা জাতীয় সংসদের সকল নির্বাচিত সদস্যদেরকে অতিরিক্ত কোন শপথ গ্রহণ না করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

আমরা খুবই উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, একটি মহল গৌরবময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নামে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। যা মূলতঃ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ও গণতান্ত্রিক সংস্কারকে ব্যর্থ করার প্রয়াস। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় যে সমস্ত বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছিল আগামী সংসদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো অনুমোদন করবেন বলে আমরা আশা করছি। যেসব প্রশ্নে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে সেগুলো জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করাই যথাযথ হবে বলে মনে করি। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যে সব বিষয়ে ঐকমত্য ও ভিন্নমত প্রকাশ করেছে সেগুলো সে অনুযায়ী বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিবৃতিতে বলা হয়, যেহেতু আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে চাই, যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানকে আমরা ভিত্তি মনে করি এবং যেহেতু ’৭২-এর­ সংবিধানের ১৪২ ধারায় উল্লিখিত রয়েছে সংবিধান সংস্কারের পথ। তাই সংস্কারের জন্য ভিন্ন কোন শপথের প্রয়োজন নাই। সংবিধান সংস্কারের শপথ তখনই প্রয়োজন হয় যখন কোনো সংবিধান থাকে না বা নতুন সংবিধান প্রণয়নের দরকার হয়।

আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে জুলাই শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায় সে লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কারে জাতীয় সংসদের সামনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির গণভোট আদেশ অনুমোদন হওয়া ব্যতিরেকে সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত আরেকটি শপথ না নেওয়ার জন্য পুনরায় আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছি। আমরা সংস্কার চাই। আমরা শুনেছি যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একইসাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে। আমরা এ বিষয়টির সাংবিধানিক ও আইনগত বৈধতা ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। কারণ সাংবিধানিক ও আইনগত দিকগুলো চিন্তা না করে যে কোন পদক্ষেপ ভবিষ্যতের সংস্কার কাজকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে- যা আমরা কেউই চাই না। আমরা দীর্ঘসময় ধরে ঐকমত্য কমিশনে এসকল সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা চাই না এই জটিলতায় সংস্কার প্রক্রিয়াটি ঝুলে যাক। সংসদ গঠনের পর এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরও অধিকতর পরামর্শ অনুসারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

সম্পর্কিত খবর

;